কেনিয়ায় গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্র্তৃপক্ষ। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গতকাল রবিবার কেনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার রাজধানী নাইরোবিতে গত রাতে বন্যার পানিতে একটি মিনিবাস আটকে পড়লে সেখান থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করেছে কেনিয়া রেড ক্রস। এ ছাড়া একটি প্লাবিত বাড়ি থেকে দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশে এই প্রবল বৃষ্টিপাত এবং পরবর্তী বিধ্বংসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি (৩৩ জন) নাইরোবির বাসিন্দা। সেখানে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দুর্বল ড্রেন ব্যবস্থাকে এই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কর্র্তৃপক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেন ব্যবস্থা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে। বন্যার এই ভয়াবহতা কেবল কেনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেও বন্যা ও ভূমিধসে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।