বিএনএনআরসির সতর্কবার্তা

ডিজিটাল সহিংসতার শিকার নারীরা, প্রতিকারের পথ এখনও কঠিন

প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা। অভিযোগ করতে ভয়, সামাজিক কলঙ্কের শঙ্কা আর বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতায় ভুক্তভোগী নারীরা এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।

আজ সোমবার সকালে বরিশাল নগরীর এবিসি ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থার ফোকাল পার্সন ও ম্যাপ বরিশালের নির্বাহী পরিচালক সুভঙ্কর চক্রবর্তী।

সংস্থাটি জানায়, প্রযুক্তি নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু একই প্রযুক্তি এখন পরিণত হয়েছে ব্ল্যাকমেইল, নজরদারি, পরিচয় চুরি ও চরিত্রহননের হাতিয়ারে। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সাইবার হয়রানি পর্যন্ত নানা রূপে এই সহিংসতা নারীর জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে আতঙ্ক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার দিকে।

বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত কর্মশালা ও সংলাপে উঠে আসা তথ্য আরও উদ্বেগজনক। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার অভাব, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা; এই তিনটি কারণে ভুক্তভোগী নারীরা বারবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংকট উত্তরণে সংস্থাটি তিনটি মূল বিষয়ে জোর দিয়েছে; অধিকার, ন্যায় ও কর্ম। নারীর ডিজিটাল অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, অভিযোগ প্রক্রিয়াকে সহজ ও গোপনীয় করা এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, নারীর জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে না। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ুক, কিন্তু তার সঙ্গে বাড়ুক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারও।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহিলা পরিষদের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহ সাজেদা।