ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়ানো গুজবের মধ্যে তার একটি কফি পানের ভিডিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিকে এআই দিয়ে তৈরি একটি উন্নতমানের ‘ডিপফেইক’ বলে দাবি করেছে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রক। খবর এনডিটিভির।
আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে নেতানিয়াহুর আরেকটি ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই এ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। আগের ভিডিওটিতে তার হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গিয়েছিল। ইরান ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখনই এই রহস্যের সূত্রপাত!
এর আগে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একটি ছবি তার এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত হলেও কয়েক দিন ধরে তা বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে ডিপফেইক ভিডিও এমন জল্পনায় হাওয়া দিচ্ছে যে, নেতানিয়াহু মারা গেছেন অথবা তিনি এতটাই আহত যে ক্যামেরার সামনে আসতে পারছেন না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও শেয়ার করার পর এই আলোচনা আবার শুরু হয়। ওই ভিডিওতে তাকে রাস্তার ধারের একটি ছোট দোকানে কফি অর্ডার করতে দেখা যায়। এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে এক্স-এর নিজস্ব এআই চ্যাটবট গ্রক এই কফির দোকানের ভিডিওটিকে ‘এআই দিয়ে তৈরি’ কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রবিবার নিজের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে উপহাস করেছেন নেতানিয়াহু। এরপর তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে জেরুজালেম হিলসের ‘সাতাফ’ ক্যাফেতে কফি অর্ডার করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে কফি বিক্রেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘চমৎকার, ধন্যবাদ।’ পরে ভিডিও ধারণকারীর দিকে তাকিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি আমাকে কী জিজ্ঞেস করলে?’
সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রচার হচ্ছে বলে জানানো হলে নেতানিয়াহু রসিকতা করে বলেন, ‘আমি এক কাপ কফির জন্য মরে যাচ্ছি।’
‘জানেন তো, আমি আমার দেশের মানুষের জন্যও পাগল। তারা দুর্দান্ত কাজ করছে। আপনারা আঙুলের সংখ্যা গুনতে চেয়েছিলেন তো? এই যে এখানে দেখুন (বাঁ হাত তুলে) এবং এখানেও দেখুন (ডান হাত তুলে)। দেখলেন তো!’
যেসব সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেতানিয়াহু মারা গেছেন এবং একটি ভিডিওতে তার বাম হাতে এআই ভুল করে ছয়টি আঙুল বসিয়ে দিয়েছে, সেগুলোর জবাবই এই ভিডিও। ভিডিওর শেষে কফির কাপ উঁচিয়ে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ল’চাইম’, যার হিব্রু অর্থ ‘জীবনের জয় হোক’।
এক্স-এর এআই চ্যাটবট গ্রক ভিডিওটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করায় তা নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রকের দাবি, এটি নেতানিয়াহুর একটি ডিপফেইক ভিডিও, যেখানে তাকে ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে কফি শপে বসে ইরান ও লেবানন অভিযান নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনার অস্তিত্ব নেই। মূল পোস্টে একে উন্নতমানের এআই অপপ্রচার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরাও এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একে ‘স্পষ্টত এআই ভিডিও’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভিডিওর কিছু ক্লোজ আপ শট শেয়ার করে একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘জাদুকরী পকেট...কাপের ভেতর মাধ্যাকর্ষণকে হার মানানো কফি... কাউন্টারের পেছনে মাস্ক পরা কাস্টমার। ভালো চেষ্টা...কিন্তু এটি আসল নেতানিয়াহু নয়।’
অন্য একজন এক্স ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, এই এআই ভিডিওতে দেখা যায় কফির দিকে তাকানোর পর নেতানিয়াহুর মুখের আকৃতি বদলে যাচ্ছে। প্রথমে মুখটি গোল দেখালেও পরে তা ডিম্বাকার হয়ে যায়। গ্রক এই দাবিকেও সমর্থন করেছে। আরেক ব্যবহারকারী বলেন, ‘ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, কফির মগ কাত হয়ে কফি উপচে পড়ার কথা, কিন্তু পড়ছে না। এই ভোজবাজি এআই ছাড়া সম্ভব?’
অন্য এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে চ্যাটবটটি লেখে, ‘হ্যাঁ, শতভাগ নিশ্চিত ভিডিওটি উন্নত এআই ডিপফেইক। নেতানিয়াহু কি জনসম্মুখে কফি খেতে খেতে ইরান-লেবানন অভিযানের মতো গোপন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন? এমন কোনো ঘটনা কোথাও ঘটেনি বা রিপোর্ট করা হয়নি। দেখতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও পুরো বিষয়টি কাল্পনিক।’
এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে দাবি করা হয়, ছয় জন জেনারেলসহ নেতানিয়াহু, তার স্ত্রী এবং ভাই মিটিং করার সময় ইরান হামলা চালায়। দাবি করা হয়, দুই তলা বাংকারের ভিতর এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তার ভাই, স্ত্রী ও ছয় জেনারেল। পরে গুরুতর আহত নেতানিয়াহুকে তাড়াহুড়ো করে জার্মানি নেওয়া হয় এবং লাইফ সাপোর্টে ডিপ কোমায় রাখা হয়। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হয়নি। ১১ মার্চ তাকে মৃত ঘোষণা করে জার্মানি থেকে ইসরায়েলে পাঠানো হয় বলে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন রটে।