বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। আজ ১৭ মার্চ সরকারের এক মাস পূর্ণ হয়েছে।
গত এক মাসে সরকারের কর্মকা- ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেছেন, ‘ভোটের কালি এখনো মুছে যায়নি। এরই মধ্যে বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। প্রশাসক নিয়োগ দিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব করবে বিএনপি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার জন-আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করলেও বিএনপি সংসদকে কার্যকর করবে এবং প্রাণবন্ত রাখবে।
প্রশ্ন : সরকারের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। নতুন সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছে। আগামী মাসে কৃষক কার্ড বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের শুরু কেমন হয়েছে বলে মনে করেন।
উত্তর : ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করেছি। নির্বাচনের আগে আমরা ইশতেহার ঘোষণা করেছি। জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রতিশ্রুতি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখনো ভোট দেওয়ার কালি মুছে যায়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনী যে ওয়াদা তিনি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। আমরা মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী মাসে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
প্রশ্ন : স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা কী?
উত্তর : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়র না থাকায় নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হচ্ছিল। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব আমরা জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে।
প্রশ্ন : ১৭ বছর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কতটা ভূমিকা রাখবে?
উত্তর : বিএনপি সবসময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবসময় গণমাধ্যমের মঙ্গলে কাজ করেছেন। তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করেছেন। ১৭ বছর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল না। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে পারেনি। সরকার অনেক গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল। বিএনপি গণমাধ্যমের পক্ষে; গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। বিগত দিনে বিএনপি সাংবাদিকদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছে। এ সহযোগিতার কথা বিএনপি সবসময় স্মরণ রাখবে। আগামীদিনে বিএনপি সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করবে। মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রশ্ন : নির্বাচনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছে। সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা কী?
উত্তর : বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সংসদকে হাস্যরসে পরিণত করেছিল। বিএনপি সে রকম হতে দেবে না। রাজনীতিতে একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আশা করছি, নতুন সংসদের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে এবং সংসদ সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশ্ন : আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী?
উত্তর : এ বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি বর্তমানে নিষিদ্ধ। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন থাকা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার চেষ্টা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট। বিএনপি বিষয়টিকে আইনগতভাবে দেখবে।