আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং ২৫০ জনেরও বেশি আহতের ঘটনায় শোক আর ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে। পবিত্র রমজান মাসের এই নৃশংসতাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন আফগান ক্রিকেটাররা।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—বেসামরিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা চালানো একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।”
রশিদ আরও যোগ করেন, “পবিত্র রমজান মাসে মানুষের জীবনের প্রতি এই চরম অবজ্ঞা অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। এটি কেবল ঘৃণা ও বিভেদই বাড়াবে। আমি জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে এই নৃশংসতার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। আমার দেশের এই কঠিন সময়ে আমি জনগণের পাশে আছি। ইনশাআল্লাহ, জাতি হিসেবে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব।”
সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি নিহতদের পরিবারের আর্তনাদের কথা স্মরণ করে লিখেছেন, “আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে একরাশ আশার মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বোমায় খুন হয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা যুবকেরা। হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে মায়েরা তাদের সন্তানদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো।”
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কাবুলের ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারাড় এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা কেবল ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তালেবান নিয়ন্ত্রিত সামরিক অবকাঠামো ও গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য কোনো হাসপাতাল ছিল না।
সীমান্তবর্তী উত্তেজনা আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে খেলার মাঠের নায়কদের এমন সোচ্চার হওয়া আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আফগান ক্রিকেটারদের এই আহ্বানে বিশ্ববিবেক সাড়া দেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।