যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল রাখতে সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তার দীর্ঘদিনের মিত্রদের মধ্যে ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, 'এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি। আমরা কূটনৈতিক সমাধান চাই। আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠালে উত্তেজনা আরও বাড়বে।' একই সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, নৌপথ সচল রাখতে তারা একটি কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, তবে ন্যাটোর ব্যানারে কোনো সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া হবে না। স্পেনও সরাসরি ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশগুলোর 'উদ্যমহীন' ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাদের তেল আসে, সেই দেশগুলোকেই এই পথ নিরাপদ রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। আমি দেখতে চাই ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি আমাদের সাথে পূর্ণ উদ্যম নিয়ে যোগ দিচ্ছে।' তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আহ্বান মেনে না চললে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ 'খুব খারাপ' হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তীব্র অবনতি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে। ইরান হুমকি দিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজগুলোর জন্য এই পথ বন্ধ রাখা হবে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা এখনই লোহিত সাগরের নৌ-মিশনকে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত করার কোনো পরিকল্পনা করছে না। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি কূটনৈতিক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো এশীয় দেশগুলোও এই সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বিশ্লেষকরা মনে করান, এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে অনাগ্রহী, যা হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।