হাতিয়ার ইউএনওর আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অসংখ্য ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার দিনভর হাতিয়ার মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইউএনওর দাবি  তার সম্মানহানির জন্য ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।     

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে হাতিয়ার বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ইউএনও মো. আলাউদ্দিন হাতিয়ার বাইরে কোন হোটেলে এক যুবতীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ নিয়ে হাতিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর লেখালেখি শুরু হয়। 

সোমবার দুপুর একটা ২০ মিনিটে রিয়াজ মাহমুদ নামক একজন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন 'হাতিয়ায় অবৈধ এমপি বানানোর প্রধান কারিগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওভার স্মার্ট ভদ্র আলাউদ্দিনের সামাজিক ভিডিও ভাইরাল'। রাত ১২টা ছয় মিনিটে 'খবর বাংলাদেশর খবর 'নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউএনও আলাউদ্দিনের তরুণীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ইউএনও বললেন এআই দিয়ে তৈরি'। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে 'আমাদের হাতিয়া' ফেসবুক আইডিতে লিখা হয়, 'হাতিয়া  উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের আপত্তিকর ভিডিও ১,২,৩ সর্বমোট ২২টি গোপন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়। এই.........তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি'। 

লোকমান হোসেন নামক একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেন 'এই ভিডিওগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ইউএনওকে জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়। পরে ইউএনও কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় হাতিয়ার সরকারের কুচক্রীমহল ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দেয়'। মেহেদি হাসান নামক একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লেখেন, 'হাতিয়ায় অবৈধ এমপি বানানোর প্রধান কারিগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের ভিডিও ভাইরাল'। 

হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে বাংলার অধ্যাপক নঈম শামীম খাঁন মঙ্গলবার বিকেলে তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, 

'হাতিয়ায় কে বা কারা ধর্ষকের পক্ষে পোস্ট দিচ্ছে, হাতিয়ার ইউএনওর অশ্লীলতার ভিডিওকে এআই বলে প্রচার করছে, তাদেরকে চিনে রাখুন, সত্য মিথ্যা প্রমাণ হবে'। 

অপরদিকে হাতিয়া থেকে প্রকাশিত 'সাপ্তাহিক হাতিয়ার কথার সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ মঙ্গলবার দুপুরে তার ফেইসবুক আইডিতে হাতিয়ার ইউএনও মো. আলাউদ্দিনের নারী কেলেঙ্কারির ভিডিওগুলো আপলোড করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। 

স্থানীয় একটি সূত্র জানায় ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে সোমবার সকাল ৯টার আগেই ইউএনও কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সোমবার উপজেলা মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সভাপতিত্বে দায়সারাভাবে আধ ঘন্টার মধ্যেই সভা শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে এ ব্যাপারে নানা নেতিবাচক গুঞ্জন শুরু হয়। 

 ইউএনওর কার্যালয়ের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় কার্যালয়ে এসে জানতে পারেন ইউএনও মো. আলাউদ্দিন জেলা সদরে গেছেন। যাওয়ার আগে তিনি কারো কাছে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ঐ কর্মচারী বলেন ইউএনওর সঙ্গে এক নারীর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। 

ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও মো. আলাউদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, "অনেক আগের একটি কর্মস্থলকে কেন্দ্র করে সেখানে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। সেই শত্রুতার জেরে কেউ এআই ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করে আমার সম্মানহানির চেষ্টা করছে। বিষয়টি প্রতিহত করার জন্য আমি কাজ করছি"। 

তিনি আরো জানান, 'বিষয়টি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে'।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বিষয়টি যাচাই বাছাই করারও প্রয়োজন রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, 'ইউএনও মো. আলাউদ্দিন সোমবার সকালে তার দপ্তরে ছুটির আবেদন পত্র দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন'।