হাতিয়ায় পুলিশ ফাঁড়িসহ ৫ দফা দাবিতে ভূমিহীনদের সমাবেশ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরগাসিয়ায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বসবাস করেও সরকারি মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ তুলেছেন ভূমিহীন বাসিন্দারা। সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক নির্মাণ, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবিতে সমাবেশ করেছেন তারা।

গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সকাল এগারোটায় হরনি ইউনিয়নের বারো আউলিয়া বাজারে এ সমাবেশ শুরু হয়ে বিকেলে শেষ হয়। সমাবেশে হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন। 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হরনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন এবং স্থানীয় ভূমিহীন নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা জানান, ২০১৩ সাল থেকে চরগাসিয়ায় কয়েক হাজার ভূমিহীন পরিবার বসবাস শুরু করে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পার হলেও সেখানে স্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা, যোগাযোগব্যবস্থা কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলার মতো মৌলিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

তাদের অভিযোগ, বসবাসরত জমিগুলোর সরকারি বন্দোবস্ত না থাকায় বিভিন্ন সময় বহিরাগত দস্যু, ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী মহলের ভয়ভীতি এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। জমি থেকে উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ জানাতে বা আইনগত সহায়তা নিতে এলাকায় কোনো পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

স্বাস্থ্যসেবার বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা। তারা বলেন, চরগাসিয়ায় কোনো সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসা পেতে নদীপথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা জরুরি মুহূর্তে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রতিবছর শিশু ও মাতৃমৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

এ ছাড়া বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের অভাবে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় চরবাসীকে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে হাজারো মানুষকে খোলা আকাশের নিচে অথবা অরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিতে হয়।

সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত চরগাসিয়ায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি, কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি খাসজমি ভূমিহীনদের নামে স্থায়ী বন্দোবস্তের দাবি জানান।

ভূমিহীনরা বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা অন্যসব এলাকার মানুষের মতো সমান সুযোগ সুবিধা চান। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তারা। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, চরাঞ্চলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে হাজারও পরিবারের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, চরগাসিয়ায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে সুখচর ইউনিয়নে একটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পরিপূর্ণ থানা করার জন্য প্রস্তাব প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন আছে। সুখচর ইউনিয়নে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠিত হলে ঢাল চর এবং চরগাসিয়া এলাকায় পুলিশিং কার্যক্রম সহজ ও দ্রুততর হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত