বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে ‘ট্রাম্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা’র সিদ্ধান্ত পেছাল

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার খড়ড় আপাতত সরছে। বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াদা) তাদের বিতর্কিত নতুন নিয়ম কার্যকরের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার সংস্থার নির্বাহী কমিটির সভায় জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে, অর্থাৎ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দুই মাস পর।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সাল থেকে ওয়াদাকে তাদের নির্ধারিত চাঁদা প্রদান বন্ধ রেখেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সাল মিলিয়ে বকেয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৩ মিলিয়ন ডলার। মূলত চীনা সাঁতারুদের ডোপিং কেলেঙ্কারি নিয়ে ওয়াদার রহস্যময় ভূমিকার প্রতিবাদে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় প্রশাসনই এই অর্থ আটকে দেয়। ওয়াদা এখন এমন এক নিয়ম করতে চাইছে, যেখানে কোনো দেশ স্বেচ্ছায় চাঁদা বন্ধ রাখলে সেই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

যৌথ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় এই গ্রীষ্মেই বসছে বিশ্বকাপের আসর। বার্তা সংস্থ এপি জানিয়েছে, ওয়াদার এই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের নিজ দেশে বিশ্বকাপ উপভোগে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না। তবে এই নিয়ম যদি সেপ্টেম্বরে পাস হয়, তবে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের গ্যালারিতে ট্রাম্প বা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

ওয়াদার ডিরেক্টর জেনারেল অলিভিয়ের নিগলি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে কোনো সরকারের অর্থ আটকে দেওয়া ডোপবিরোধী কর্মসূচির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে অ্যাথলেটরা।’ অন্যদিকে, ওয়াদার মুখপাত্র জেমস ফিটজেরাল্ড আগে জানিয়েছিলেন যে এই নিয়মটি অতীতের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগ করা হবে না। ফলে বিশ্বকাপ বা লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এর আওতায় পড়বে না। তবে ফিটজেরাল্ডের এই দাবির স্বপক্ষে অফিসিয়াল নথিতে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম খুঁজে পায়নি বার্তা সংস্থা এপি।

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট উভয় দলই ওয়াদার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থ আটকে দেওয়ার বিষয়ে একমত। তবে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ওয়াদার নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ হারায়। বর্তমানে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় ওয়াদার ভেতরে নিজেদের অবস্থান জোরালো করা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত মাঠের ফুটবল নিয়ে মাতামাতি চললেও, বিশ্বকাপের পর ডোপবিরোধী সংস্থার এই রাজনৈতিক খেলা কোনদিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।