আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, যেখানে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে হৃদয় ভেঙেছিল ভারতের। ঠিক তিন বছর পর সেই একই মাঠে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিল ভারত। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব শোনালেন তার বদলে যাওয়ার গল্প।
সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারত এখন পর্যন্ত ৫২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৪২টিতেই জিতেছে। সাফল্যের হার ৮০.৭৬ শতাংশ। পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মজা করে সূর্যকুমার বলেন, ‘আমি স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করে যে নম্বর (পার্সেন্টেজ) পাওয়ার চেষ্টা করতাম, আজ ক্রিকেটে সেই নম্বরটাই পাচ্ছি। পড়াশোনায় আমি কোনোদিন ৫০-৬০ শতাংশ পার করতে পারিনি। পরিসংখ্যান নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না, তবে হারতে আমার একদম ভালো লাগে না।’
বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে, কিন্তু সূর্যের মন ছিল মাঠের ২২ গজে। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার খুব চেষ্টা করেছিল আমাকে উচ্চশিক্ষিত করতে। কিন্তু অল্প দিনেই তারা বুঝে গিয়েছিল যে এই ছেলেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। খেলাধুলাতেই আমার আনন্দ ছিল, তাই শেষ পর্যন্ত তারা পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল।’
২০১০ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হলেও জাতীয় দলে ডাক পেতে সূর্যের সময় লেগেছিল ২০২১ সাল পর্যন্ত। দীর্ঘ এই অপেক্ষার মাঝে স্ত্রী দেবিশার কিছু কথা তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সূর্য জানান, ‘২০১৬ সালে আমাদের বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে যখন আমি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দেই, তখন দেবিশা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল- “তোমার সাথে যারা বয়সভিত্তিক দলে খেলেছে তাদের অনেকেই ভারতের হয়ে খেলছে, তোমার পরিকল্পনা কী?” আমি বলেছিলাম, “আমিও খেলতে চাই।” ও তখন প্রশ্ন করেছিল “কিন্তু কীভাবে?”
স্ত্রীর সঙ্গে সেই আলোচনার পর সূর্যের জীবনযাত্রা আমূল বদলে যায়। ডায়েট থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা- সবকিছুতেই কাটছাঁট করেন তিনি। সূর্য বলেন, ‘২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আমি আইপিএলে টানা রান পাচ্ছিলাম। দেবিশা পর্দার আড়াল থেকে আমাকে সবসময় সত্যিটা বলত। কখনো কখনো ওর কথাগুলো খুব নিষ্ঠুর লাগত, কিন্তু আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে, তার ১০০ শতাংশ কৃতিত্ব ওকেই দেব।’
সূর্যকুমার মাঠে মারকুটে ব্যাটার হিসেবে পরিচিত হলেও বাড়িতে তিনি একেবারেই সাধারণ। সূর্যের ভাষায়, ‘দেবিশা আমাকে শিখিয়েছে ক্রিকেটকে বাড়িতে টেনে না আনতে। ও বলেছিল- “বাড়িতে তুমি সূর্যকুমার যাদব নও, একদম স্বাভাবিক থাক। খাবার খাওয়ার পর নিজের প্লেটটা নিজেই সিঙ্কে গিয়ে রেখে এসো।” এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আমাকে মাটিতে পা রেখে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।’
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও রবীন্দ্র জাদেজাদের অবসরের পর একঝাঁক তরুণকে নিয়ে বিশ্বজয় করা সূর্যের পরবর্তী লক্ষ্য এখন একটাই- সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখা। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমরা টানা দুবার জিতলাম, তিনবার কেন নয়?’
‘মনে হচ্ছে পাগলাগারদে আছি’ -শিরোপা কেড়ে নেওয়ায় ফুঁসছে সেনেগাল
ফিনালিসিমা বাতিল হওয়ায় গুয়াতেমালার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা
পাকিস্তানের হামলার পর 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' ভারতের সহায়তা চাইলেন আফগান তারকা স্পিনার