ঈদে আফগানিস্তানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা পাকিস্তানের

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এদিকে বুধবার (১৮ মার্চ) কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রে হামলায় নিহত কিছু মানুষের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার ওই কেন্দ্রে হামলায় শত শত মানুষ নিহত হন।

আফগান তালেবান সরকার জানায়, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। বরং তারা ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্যবস্তু করেছিল। কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। পাকিস্তান অভিযোগ তুলেছে, কাবুলের তালেবান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

তারার আরও বলেন, পবিত্র রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ’ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে এই বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে তারার বলেছেন, যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা, ড্রোন হামলা বা কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান অবিলম্বে আবার তীব্রতার সঙ্গে শুরু হবে।

এদিকে গতকাল আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।

সোমবার দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে বিমান হামলা হয়। তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে এই একটি হামলায়ই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।