নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অনন্য মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একই পরিবারের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তারা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপজেলার বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় এ ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম রাব্বানী।
স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পে অংশ নেন একই পরিবারের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম (নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ), ডা. মো. আশিকুল ইসলাম (বাত-ব্যথা ও রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) এবং ডা. আলেয়া ফেরদৌস মুন্নী (ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ)। তারা দিনব্যাপী শিশু রোগ, বাত-ব্যথা, শারীরিক পুনর্বাসন, ডায়াবেটিস ও হরমোনজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভোগা অসংখ্য রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ডা. আতিকুল ইসলাম জানান, তারা জামনগর এলাকার সন্তান হিসেবে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শেষে চিকিৎসক পরিবারটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসাতুল হাদীছ আস-সালাফিয়্যাহর উন্নয়ন ও কল্যাণে ২০ হাজার টাকার একটি চেক এবং নগদ আরও ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু দাস, শহিদুল ইসলাম, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফ্ফর হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাদৎ হোসেন, পল্লী চিকিৎসক আবু রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এই মহতী আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল মেসার্স সানজিদা ফার্মেসি, বাজিতপুর স্কুল মোড়।
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং একই সঙ্গে অবহেলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।