'এভাবে খেললে পিএসজির কাছে ১০ গোল খাবে লিভারপুল'

দশ মাস আগের দৃশ্যটা ছিল ভিন্ন। সেবার ব্রাইটনের মাঠে হেরেও উৎসবে মেতেছিল লিভারপুল সমর্থকরা, কারণ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ততক্ষণে তাদের ঘরে। কিন্তু গত পরশু আমেক্স স্টেডিয়ামে যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজল, গ্যালারির চিত্রটা ছিল তার উল্টো। আর্নে স্লটের শিষ্যদের টানা ব্যর্থতায় ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে শুরু করেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা। 

ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলের এই হারে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের লিগ টেবিলে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের মৌসুমে এটি লিভারপুলের দশম হার। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের মৌসুমে ১০ বা তার বেশি ম্যাচ হারার ঘটনা এর আগে ঘটেছে মাত্র ছয়বার। লিগের শুরুতে টানা পাঁচ জয়ের যে দাপট স্লটের দল দেখিয়েছিল, পরের ২৬ ম্যাচে মাত্র ৯টি জয় সেই ছন্দকে পুরোপুরি ম্লান করে দিয়েছে। বর্তমানে টেবিলের পঞ্চম স্থানে থাকলেও তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে চেলসি।

গালাতাসারের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই চোট জর্জর হয়ে পড়ে অলরেডরা। মোহামেদ সালাহ ও অ্যালিসন বেকার আগে থেকেই বাইরে ছিলেন। ম্যাচের মাত্র দুই মিনিটের মাথায় চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন স্ট্রাইকার হুগো একিতিকে। ম্যাচ শেষে হতাশ আর্নে স্লট বলেন, ‘সবকিছুই যেন ভুল পথে এগোচ্ছে। সালাহ-অ্যালিসন নেই, তার ওপর দুই মিনিটে একিতিকে মাঠ ছাড়ল। মৌসুমজুড়ে বারবার এমনটা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাইটনই ভালো খেলেছে এবং জয় তাদেরই প্রাপ্য ছিল।’

লিভারপুলের সাবেক লেফট-ব্যাক স্টিফেন ওয়ার্নক এই হার দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘প্যারিসে গিয়ে পিএসজির বিপক্ষে যদি ওরা এভাবে খেলে, তবে ১০ গোলও হজম করতে হতে পারে। ব্রাইটন সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি, কিন্তু পিএসজি ছাড় দেবে না।’

ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামার আগে লিভারপুলের সামনে এখন কঠিন পথ। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে তারা পাড়ি জমাবে প্যারিসে। বর্তমান ফর্ম অব্যাহত থাকলে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়াটা লিভারপুলের জন্য দিবাস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।