নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ ২১ বছরের পুরনো ‘সুপার স্ম্যাশ’ টুর্নামেন্টকে বিদায় জানিয়ে এবার বড় পরিসরে নিজস্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ চালুর পথে হাঁটছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। প্রস্তাবিত এই নতুন লিগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এনজেড২০’। তবে এই লিগ কেবল ছেলেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বোর্ড, নারীদের ক্রিকেটকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই লিগে মোট ছয়টি দল অংশ নেবে, যার মালিকানা থাকবে বেসরকারি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হাতে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছেন আয়োজকরা। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এই প্রস্তাবে নীতিগত সমর্থন দিলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বাণিজ্যিক কাঠামো, পরিচালনা ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত কিছু বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।
এনজেডসির বোর্ড চেয়ারম্যান ডায়ানা পুকেটাপু-লিন্ডন বলেন, ‘এটি কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি নয়, তবে আমরা এনজেড২০ আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই এই লিগ যেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের মঙ্গলে কাজ করে।’
বোর্ডের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নারীদের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নারীদের ক্রিকেটের প্রচার ও প্রসার নিশ্চিত করা বোর্ডের অন্যতম প্রধান শর্ত। পুকেটাপু-লিন্ডন আরও যোগ করেন, ‘আমরা চাই এই টুর্নামেন্টে যেন আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব থাকে, যাতে তরুণ ক্রিকেটাররা তাদের হিরোদের চোখের সামনে খেলতে দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।’
নিউজিল্যান্ডের সামনে সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ‘বিগ ব্যাশ’ লিগের (বিবিএল) সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর কিউই বোর্ড নিজস্ব লিগ চালু করার সিদ্ধান্তই বেছে নিয়েছে। তাদের মতে, ২১ বছরের পুরনো সুপার স্ম্যাশকে আধুনিকায়ন করে ঢেলে সাজানোর এটাই উপযুক্ত সময়। নিজস্ব লিগ থাকলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের স্বকীয়তা এবং নিয়ন্ত্রণ দুই-ই বজায় থাকবে বলে মনে করছে বোর্ড।
আইপিএল, বিপিএল বা পিএসএলের মতো এবার নিউজিল্যান্ডও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই লিগ চালু হলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের বিদেশে খেলার প্রবণতা কমবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে অর্থের ঝনঝনানি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।