শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ৫০টি ঘর ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কালাই ভূঁইয়ার কান্দি ও দরবেশখার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন রাজনগর জামিউল উলুম মাদরাসা কেন্দ্রে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাড়ি বংশের সোহাগ রাড়ি, উজ্জ্বল রাড়ি ও মেলকার বংশের মজিবর মেলকারের লোকজনদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়। সেই জের ধরে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মেলকার বংশের শতাধিক লোকজন নিয়ে ককটেল, ঢাল-সুরকিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড়ি বংশের লোকজনের বাড়িতে হামলা করে বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় রাড়ি ও ভূঁইয়া বংশের অর্ধশত বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও চারটি গরু নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গিয়াসউদ্দিন বেপারী নামের এক বৃদ্ধ আহত হয়। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে উভয় পক্ষের ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ২টি ককটেলসহ ককটেলের আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কালাই ভূঁইয়ার কান্দির বাসিন্দা ভুক্তভোগী হাবিবা আক্তার বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ ককটেলের শব্দে জেগে উঠি। মজিবর মেলাকারের লোক রুবেল কাজী, সোহেল কাজীসহ অন্তত শতাধিক লোক আমাদের বাড়িতে ঢুকে ককটেল মেরে বাড়িঘর ভাংচুর করে। তারা আমাদের ঘর থেকে তিনটা স্বর্ণের চেইন, আড়াই লাখ টাকা ও দুইটি ভিসা কার্ড নিয়ে যায়।
একই এলাকার বাসিন্দা মারুফা আক্তার বলেন, মেলকার ও রাড়ি বংশের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে। এছাড়া আমাদের চারটি গরু নিয়ে যায় হামলাকারীরা। আমরা এই হামলার বিচার চাই।
তবে, অভিযুক্ত রাড়ি বংশের সোহাগ রাড়ি, উজ্জ্বল রাড়ি অথবা মেলকার বংশের মজিবর মেলকারের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, রাজনগর ইউনিয়নের মেলকার বংশের সঙ্গে রাড়ি বংশের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব আছে। তারই জেরে আজ বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ককটেল ও ককটেলের আলামত উদ্ধার করেছি। এছাড়া ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোন মামলা হয়নি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।