ব্যাপক দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের অভিযোগে চেক প্রজাতন্ত্রে ৪০ খেলোয়াড়সহ শতাধিক আটক

চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অঙ্গন এক ভয়াবহ দুর্নীতি ও ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে কেঁপে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে দেশটির পুলিশ একযোগে বিশাল অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন খেলোয়াড়, রেফারি এবং ফুটবল কর্মকর্তাকে আটক করেছে। চেক ফুটবলের ইতিহাসে একে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ‘ক্র্যাকডাউন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

মূলত ফুটবল ম্যাচ নিয়ে অবৈধ বাজি এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার অ্যাগেইনস্ট অর্গানাইজড ক্রাইম এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে। চেক ওয়েবসাইট আইস্পোর্ট ডট সিজেড জানিয়েছে, এই অভিযানটি হুট করে হয়নি। ইউরোপোল এবং ইন্টারপোলের সহায়তায় গত তিন বছর ধরে চলা গোপন তদন্তের ভিত্তিতেই এই গণগ্রেপ্তার শুরু হয়েছে।

কেবল শীর্ষ লিগ নয়, বরং যুব লিগ থেকে শুরু করে চতুর্থ বিভাগের ম্যাচগুলোও এই দুর্নীতির জালে আটকা পড়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, মোরাভিয়া অঞ্চলের ক্লাবগুলোর মধ্যেই দুর্নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে চেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ডেভিড ট্রুন্ডা জরুরি নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন। এক বার্তায় তিনি সদস্যদের জানান, 'ভোর ৬টা থেকে এক বিশাল অভিযান শুরু হয়েছে, যা সম্ভবত চেক ফুটবলের ইতিহাসে বৃহত্তম। পুলিশ এবং আমাদের এথিক্স কমিটি এরই মধ্যে ৪০ জনেরও বেশি খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।'

এই কেলেঙ্কারি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন চেক ফুটবল দল ২০২৬ বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এছাড়া গতকালই দেশটিতে 'সেরা ফুটবলার' পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই এই কলঙ্কজনক অধ্যায় দেশটির ফুটবলের ভাবমূর্তি বড় সংকটে ফেলেছে।