ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার ৮ বছর নিষিদ্ধ

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বোদুগুম আকিলেশ রেড্ডি-কে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তি ঘোষণা করা হয়।

আইসিসির প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০২৫ আবুধাবি টি-টেন টুর্নামেন্টে দুর্নীতি ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার সঙ্গে এই শাস্তি সম্পর্কিত।

  • ঘটনার সূত্রপাত: ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর 'অ্যাসপিন স্ট্যালিয়নস' দলের প্রথম ম্যাচের আগে আকিলেশ রেড্ডি তার দলের একজন বোলারকে (আইসিসির নথিতে ‘প্লেয়ার এ’) স্পট ফিক্সিংয়ের উদ্দেশ্যে ওভারে বেশি রান দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, দলের ম্যানেজমেন্টের নির্দেশে তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

  • সতীর্থের অস্বীকৃতি ও রিপোর্ট: ওই সতীর্থ খেলোয়াড় প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং অবিলম্বে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে বিষয়টি রিপোর্ট করেন। এরপরই তাকে মূল একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

  • তথ্য-প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা: তদন্ত শুরু হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আকিলেশ রেড্ডি তার মোবাইল ডিভাইস থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কল লগ মুছে ফেলেন। তিনি এটিকে রুটিন ‘ডেটা ক্লিনআপ’ দাবি করলেও বিচারক ট্রাইব্যুনাল এটি ইচ্ছাকৃত প্রমাণ লোপাট হিসেবে গণ্য করে।

আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড পরিচালিত এই তদন্ত শেষে ৩ সদস্যের আইসিসি ট্রাইব্যুনাল আকিলেশ রেড্ডিকে তিন পৃথক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে:

১. ধারা ২.১.১: ম্যাচের ফল, গতিপথ বা কোনো নির্দিষ্ট অংশ অবৈধভাবে প্রভাবিত বা ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করা।

২. ধারা ২.১.৪: অন্য কোনো খেলোয়াড়কে ফিক্সিং বা নিয়ম লঙ্ঘনে প্ররোচিত বা উৎসাহিত করা।

৩. ধারা ২.৪.৭: মোবাইল ফোনের তথ্য-মেসেজ মুছে ফেলে আকু-এর তদন্তে বাধা প্রদান করা।

২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ফলে সেই তারিখ থেকেই তার ৮ বছরের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ধরা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে ৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আকিলেশ রেড্ডির ক্রিকেট ক্যারিয়ার এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় সংকটে পড়ল।

 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত