আমতলীতে কুড়া নিয়ে বিরোধ

১০০ টাকার লেনদেন নিয়ে সংঘর্ষে ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

বরগুনার আমতলীতে ধানের কুড়া ক্রয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর ১টায় আমতলী উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসান। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ধানের কুড়া ক্রয়কে কেন্দ্র করে তার পিতা আয়নালী আকনের সঙ্গে একই গ্রামের সোনা মিয়া প্যাদা ও তার লোকজনের বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোনা মিয়া প্যাদা, তোতা মিয়া, আতাহার প্যাদা, বশির প্যাদা, বেল্লাল প্যাদা, মেহেদী হাসান, মাসুম প্যাদা, সোহেল প্যাদা ও জিহাদ হোসেনসহ ৮-৯ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে ভাংচুর চালায় এবং আয়নালী আকন, তার ছেলে সজিব, আল-আমিন, রুহুল আমিন ও স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহতদের মধ্যে সজিব বর্তমানে আইসিউতে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় গত ২২ মার্চ রাতে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেন রুহুল আমিন।

তবে অভিযোগ করা হয়, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পাল্টা মিথ্যা মামলা করে এবং মূল মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে প্রাণনাশ ও বাড়িঘর ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

আমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দ্র দে জানান, ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।