আমতলীতে খালে মাছ চাষ বন্ধ করার দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গোডাঙ্গা প্রবাহমান খালে মাছ চাষের প্রতিবাদে মানববন্দন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকার কৃষক ও ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালীরা গোডাঙ্গা স্লুইসগেট থেকে ২০ ফুট দূরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কার্যক্রম শুরু করেছেন। 

ঘনজালের বেড়া দেওয়ায় প্রবাহমান খালের পানি ওঠা-নামা কমে গেছে। এর ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও কৃষকরা জানান, এই খালের পানি দিয়ে তারা কৃষিকাজসহ পারিবারিক কাজ করে থাকেন ও খালের দুই পাড়ের বসবাসরত পরিবারগুলো পারিবারিক সঠিক বানান হলো গৃহস্থালির কাজ ও গরু-ছাগলের গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন এবং বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকে এই খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।   

সম্প্রতি স্লুইসগেট থেকে ২০ ফুট দূরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে কৃষকসহ খালের পাড়ের বসবাসরত ভুক্তভোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দ্রুত এই প্রবাহমান খালে মাছ চাষ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টায় গোডাঙ্গা খালের পাড়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তাব্য রাখেন, ভুক্তভোগী জালাল হাওলাদার, মো. হারুন তালুকদার, আলতাফ হোসেন, নোহরাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাফিয়া বেগম ও মরিয়ম বেগম প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, এই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের ভোগান্তির কোন শেষ  থাকবে না। আমাদের বেঁচে থাকার কোন উপায় থাকবে না। 

ভুক্তভোগি মো. হারুন তালুকদার বলেন, স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম মাষ্টারের তত্ত্বাবধানে কিছু প্রভাবশালী  খালের মধ্যে নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। যার কারণে এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকবে না। কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, এই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের বেঁচে থাকার কোন উপায় থাকবে না। এই খালে পানি দিয়ে আমরা ইরি-বোরো ও রবি মৌসুমে ফসল ফলিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকি। সহিদ হাওলাদার নামে এক ভুক্তভোগি জানান, খালে মাছ চাষ করার প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী জাকির হোসেন আমার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু জাফর বলেন, শতশত কৃষকের ক্ষতি হবে এই খালের মাছ চাষ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি। যদি প্রশাসন দ্রুত গতিতে মাছ চাষ কার্যক্রম বন্ধ না করেন, তাহলে জনসাধারণের সুবিধার জন্য তাদেরকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। 

এ বিষয়ে মো. জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে মাছ চাষের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি এর সাথে জড়িত নাই। আফজাল মৃধা নামক জনৈক ব্যক্তি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। মাছ চাষের কারণে এলাকাবাসীর ক্ষতি হবে কেনো বরং উপকার হচ্ছে। এই খালটি কচুরি পানায় ভরপুর ছিল। খালের পানি কেউ ব্যবহার করতে পারত না। মশা মাছির কারখানা ছিল খালটি। পরিষ্কার করায় এখন সাধারণ মানুষ খালের পানি ব্যবহার করতে পারবে। 

এ বিষয় আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত