ঈদের ছুটিতে নাগরিক জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে বেড়াতে রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করছেন পর্যটকরা। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা ও হ্রদে ঘেরা প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্য এই জেলা বরাবরই পছন্দের তালিকায় থাকে পর্যটকদের। ঈদের টানা ছুটিতে রাঙ্গামাটির বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় এখন নেমেছে পর্যটকের ঢল। খালি নেই হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। এতে ব্যবসা বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও।
জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ব্যস্ততম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক। বিনোদনের অন্যতম জনপ্রিয় এ স্থানটি এখন পর্যটকের দখলে। সাজেকের হোটেল-মোটেলের শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে। ঈদের পরদিন থেকে শতভাগ বুকিং রয়েছে মেঘ-পাহাড়ের সাজেক ভ্যালিতে। বিপুল পর্যটকের উপস্থিতিতে খুশি ব্যবসায়ীরাও। অনেকেই রুম বুকিং না দিয়ে সাজেকে চলে যাওয়ায় রুম পাননি। তাদের বিভিন্ন ক্লাব, বাসাবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কটেজ মালিক সমিতি অব সাজেকের তথ্যমতে, সাজেকে ১০৮টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। রেস্তোরাঁ আছে ১৪টির বেশি। সবগুলোতেই পর্যটকদের ভিড়।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, ‘ঈদের পরদিন থেকে আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত আমাদের সব কটেজ, রিসোর্ট শতভাগ ভাড়া হয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার পর্যটক সাজেক ভ্রমণ করছে। তাদের সব ধরনের সুবিধা দিতে সমিতির নেতারা কাজ করছেন।’
শুধু সাজেকই নয়, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভিড় নেমেছে রাঙ্গামাটি সদরের পর্যটন স্পটগুলোতেও। ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পট পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলরাশির সঙ্গে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা সুবলংয়ে নৌবিহারও করছেন। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মো. কবির বলেন, ‘পরিবার নিয়ে রাঙ্গামাটি ঘুরতে এলাম। চমৎকার পরিবেশ। হ্রদের পানিও শান্ত ও স্বচ্ছ। এমন সৌন্দর্য বাংলাদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে, সেটি নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।’
চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে আসা পর্যটক দম্পতি বলেন, ‘ঈদের পরের দিন পরিবার নিয়ে রাঙ্গামাটি এসেছি। ইতিমধ্যে আরণ্যক ও পলওয়েল পার্ক ঘুরেছি। এবার কাপ্তাই হ্রদে এসেছি। হ্রদের সৌন্দর্য আমাদের সত্যিই বিমোহিত করেছে।’
পর্যটন নৌযানচালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ বি এম সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের দিন দুপুর থেকে পর্যটকরা রাঙ্গামাটি আসতে শুরু করেছেন। আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই রাঙ্গামাটিতে প্রচুর পর্যটক হবে বলে আমরা আশা রাখছি।’
রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকরা আসছেন। আমাদের যে টার্গেট ছিল ঈদ ঘিরে, আশা করছি তা পূরণ হবে। বর্তমানে আমাদের হোটেল-মোটেলগুলোয় প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙ্গামাটি জোনের উপপরিদর্শক উইলিয়াম ত্রিপুরা বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘেœ ভ্রমণ করতে পারে, সে বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ সজাগ রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।