চাঁদাবাজির অভিযোগে ফেনীতে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি বহিষ্কার!

ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতার কাছে চাঁদাদাবির অভিযোগে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুরের নুরুল হকের ছেলে। মঙ্গলবার (২৪মার্চ) রাত ৮টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদলের সকল পদ থেকে নোমানুল হক নোমানকে বহিষ্কার করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও নাছির উদ্দিন পাটোয়ারি। একই সাথে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান ভুঞাকে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফেনীর সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রদল নেতার মধ্যে চাঁদা দাবির একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। প্রায় ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই অডিও ক্লিপে বলতে শোনা যায়, ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমান নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার তাহাদ ইফতুর কাছে মাটি পরিবহনের জন্য ১৬ হাজার টাকা দাবি করছেন। পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর সড়ক দিয়ে সাত দিন মাটি পরিবহন করতে হলে এই অর্থ দিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

অডিওতে নোমানকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত’। টাকা না দিলে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। জবাবে ইফতু বলেন, ‘নিজ দলের লোক হয়ে যদি টাকা দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়, সেটা লজ্জার। এ সময় নোমান বলেন, এগুলো পোলাপানের চা-নাশতার টাকা, সবাই দেয়’। পাশাপাশি রাত ১০টার পর মাটির গাড়ি চালানোর পরামর্শও দিতে শোনা যায় তাকে।

ইফতু প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি কি চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করব?’ উত্তরে নোমান বলেন, ‘তুই যদি এটাকে চাঁদা মনে করস, কিছু করার নাই।’ অডিওর এক পর্যায়ে ইফতু অভিযোগ করেন, এর আগেও একদিন গাড়ি চালানোর সময় টাকা দিতে হয়েছে। নোমান দাবি করেন, সেই টাকা তিনি ‘সিনিয়রদের’ কাছে দিয়েছেন এবং ক্লাবের খরচ হিসাব করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোমানুল হক নোমান বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের।’ তার দাবি, তিনি চাঁদা দাবি করেননি। এলাকার কিছু ছেলেপেলে একটি মাটির গাড়ি আটকালে আমি বিষয়টি সমাধান করি। পরে ইফতু নিজেই আমাকে কল করে ব্যবসা চালানোর জন্য টাকা দিতে চায়। আমি শুধু স্থানীয়দের চাহিদার কথা বলেছি, বলেন তিনি। অন্যদিকে, ইফতেখার তাহাদ ইফতু অভিযোগ করেন, তার কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।