২০২৬ বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ঠিক এই সময়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের চোট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন চিকিৎসা-বিতর্ক। আরএমসি স্পোর্টের সাংবাদিক ড্যানিয়েল রিওলোর দাবি, এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের ভুল রোগনির্ণয়ের শিকার হয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারত। এমনকি রিয়াল মাদ্রিদ চিকিৎসকরা তার আক্রান্ত হাঁটুর বদলে ‘ভুল হাঁটু’ পরীক্ষা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে এমবাপ্পে তার বাম হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করেন। মাদ্রিদে করা পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে তিনি ফ্রান্সে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। রিওলোর মতে, ফরাসি চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে মাদ্রিদে এমবাপ্পের চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি ভুল ছিল।
এই ঘটনার গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, বছরের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদ তাদের পুরো মেডিকেল টিমকে ছাঁটাই করে। যদিও ক্লাব থেকে বলা হয়েছিল অনেক খেলোয়াড়ের ইনজুরির কারণে এই সিদ্ধান্ত, কিন্তু রিওলোর দাবি—আসল কারণ ছিল এমবাপ্পের হাঁটুর সেই ‘ভয়াবহ’ ভুল রোগনির্ণয়।
প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ বার্ট্রান্ড সনারি-কটেট এমবাপ্পের হাঁটু পরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দেন। পরিবর্তে ১৫ দিনের একটি বিশেষ পেশি শক্তিশালীকরণ প্রোগ্রামের পরামর্শ দেন তিনি। এই চিকিৎসার ফলেই ডিসেম্বর থেকে বয়ে বেড়ানো ব্যথা কাটিয়ে এমবাপ্পে আবারও পূর্ণ ছন্দে অনুশীলনে ফিরতে পেরেছেন। সাংবাদিক রিওলোর ভাষায়, ‘ফ্রান্সে আসার কারণেই এমবাপ্পে বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন।’
বর্তমানে ফ্রান্সের ক্লারিফন্টেইনে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা এমবাপ্পে নিজেও এই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার হাঁটু এখন ১০০ ভাগ ঠিক আছে। অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে, কিন্তু প্যারিসে সঠিক রোগনির্ণয় করতে পারায় আমি এখন শান্ত। আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম ঠিক কী ঘটছে, কারণ ব্যথার কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখন আমি রিয়ালের হয়ে মৌসুমের শেষভাগ এবং বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
সব বিতর্ক পেছনে ফেলে এমবাপ্পে এখন প্রস্তুত ফ্রান্সের হয়ে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে। ফরাসি সমর্থকদের আশা, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না।