গাইবান্ধার সদর উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জমির অংশ কম পাওয়ার ক্ষোভে ছেলে নিজের বাবার কবরের বেষ্টনী ভেঙে ফেলেছেন।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বাবার কবরে ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে ওই এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক প্যান্ট ও গেঞ্জি পড়ে হাতে শক্ত কিছু একটা দিয়ে মাটিতে আঘাত করছে। কবরের ওপর ছোট গাছ ও বুনো ঘাস কেটে দিচ্ছে। বাঁশ ও প্লাষ্টিক দিয়ে কবরের চার পাশ ঘেরা খুটিগুলো লাথি মেরে ভাঙচুর করছে। কবরের চারপাশে সবকিছু ভেঙে ফেলছে।
ভিডিওতে গালি দিতেও শোনা যায়। চতুর পাশে শত নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তারাও বিড়বিড় করে কিছু বলছে। পাশ থেকে নারীর কণ্ঠে কান্না শোনা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল মান্না মিয়ার কবরের। কবর ভাঙচুর করা ব্যক্তির নাম শাহ আলম। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। গত মঙ্গলবার দুপুরে বাবার কবরে গিয়ে ভাঙচুর করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা সেই ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোলাহাটি ইউপি সদস্য আব্দুল হাই মিয়া। তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, আনালেরতাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নানের পাঁচ ছেলে। ৩/৪ বছর আগে মান্নান মিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার জমি পাঁচ ছেলের মাঝে ভাগ করে দেন। তবে আব্দুল মান্নান মিয়া গোপনে তার দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল মিয়াকে অতিরিক্ত কিছু জমি লিখে দেন। লিখে দেওয়া সেই জমি কয়েক বছর পর গোপনে ছোট ছেলে শাহ আলমকেও লিখে দেন। সম্প্রতি জমি ভাগ করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। একই জমি দুই ছেলেকে লিখে দেওয়ায় ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শাহ আলম রাগে ক্ষোভে বাবার কবরে গিয়ে এমন কর্মকাণ্ড ঘটায়। আশেপাশের লোকজন সেটা ভিডিও করে।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বড় ছেলে ইকবাল মিয়ার দখলের জমিতে তার বাবার কবর। কবরের জায়টা ছোট ছেলে শাহ আলম নিজের জমি দাবি করে তার বাবার কবর ভাঙচুর করে। জমির জন্য নিজের বাবার কবরে অসম্মানজনক আচরণ করা খুবই দুঃখজনক।
একই গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, এই ছেলের শাস্তি হওয়া দরকার। যাতে ভবিষ্যতে এমন জঘন্য কাজ করার কেউ সাহস না করে। ইসলামে কবরের উপর দিয়ে হাঁটা বা অসম্মানজনক আচরণ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
এদিকে, শাহ আলম মিয়া সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।