খুলনায় জ্বালানি তেল কিনতে পাম্পে পাম্পে গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি করা হলেও পাম্পগুলোর চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গ্রাহকদের দাবি, তারা চাহিদা অনুযাীয় তেল পাচ্ছে না। তবে পাম্পমালিকরা বলছে, সংকটের শঙ্কায় গ্রাহকদের মধ্যে তেল মজুদের প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছে। এ কারণেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনার অনেক পাম্পে ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে। যে সব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে মোটরসাইকেলসহ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন জমছে। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে অনেকে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহানগরীর বাইপাস সড়কে মেসার্স মারিয়া ফিলিং স্টেশনসহ অনেকে পাম্পে পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।
তবে পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সংকটের শঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল মজুদের প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে করছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা বেশি তেল সংগ্রহ করছেন।
মহানগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে কেসিসি পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে তেল নিতে আসা আব্দুল্লাহ আল কাফি জানিয়েছেন, গত রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার অনেক পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ৩০০ টাকার তেল মোটরসাইকেলে নিতে পেরেছি।
ডুমুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোক্তার হোসেন জানান, বুধবার মেসার্স লতিফ ফিলিং স্টেশনে কমপক্ষে দুই শ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল। অথচ ‘তেল নাই’ লেখা ও নেট জাল সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ পসঙ্গে খুলনা জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সহসভাপতি মহিবুল হাসান বলেন, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় ২৯টি তেল পাম্প রয়েছে। চাহিদার তুলনায় তেল কম পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু তেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকরা তেল মজুদের জন্য বেশি বেশি তেল নিচ্ছে-মূলত এ কারণেই সংকট তৈরি হয়েছে।