উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য আলোচনার ভেন্যু হিসেবে তুরস্ক বা পাকিস্তানের নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে হস্তান্তর করেছে পাকিস্তান। বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখছে তুরস্কও। যদিও ইরান প্রকাশ্যে এখনো জানিয়েছে তারা কোনো আলোচনা করছে না এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না, তবুও এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগে আলোচিত ১৫ দফা মার্কিন পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধের মতো শর্ত থাকতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকেও এই প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে সম্ভাব্য আলোচনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তেলের দাম কিছুটা কমেছে এবং শেয়ারবাজারে উত্থান এসেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশায় রয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে স্থল অভিযানের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা চাইলে খুব শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে প্রস্তুত। একইভাবে তুরস্কও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।
তবে ইরানের সামরিক মহল এখনো স্পষ্ট করে বলছে-বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।