স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন আইনি জটিলতার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। সেটি আইন হিসেবে পাস হওয়ার পর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে, সরকার দ্রুতই এসব নির্বাচন দিতে চায়। বুধবার(২৫মার্চ) বিকেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এটা তো খুব আলোচিত প্রশ্ন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা নির্বাচিত সরকার হিসেবে মনে করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এটা হওয়া উচিত। আমরা এটা করতে চাই, কিন্তু একটু আইনগত জটিলতার কারণে একটু সময় লাগছে। সেটি হচ্ছে যে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশ জারি করে এই নির্বাচনগুলি বাতিল করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের বিধান করেছে এবং এই নির্বাচনগুলো অতীতে যেরকম জাতীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ বা এরকম বিভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন হতো, সেই প্রতীকটি বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবনা করেছে। এই অধ্যাদেশগুলি সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী। এরপরে বিশেষ কমিটিতে আছে। এটা সংসদ সদস্যরা এবং জাতীয় সংসদ আইন আকারে এই পাঁচটি অধ্যাদেশ পাশ করবার পরে আইন মন্ত্রণালয় ভেটিং হয়ে যখন আমাদের মন্ত্রণালয়ে আসবে,তখন সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নেব ইনশাআল্লাহ।
কতটা সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান জাতীয় সংসদ কতগুলি অধ্যাদেশ আইন আকারে পাশ করবে বা আমরা করব, সেটি এক মাসের মধ্যেই আমাদেরকে করতে হবে। তাহলে ধরে নেন যে, ওই অধ্যাদেশগুলো আমাদের এক মাসের মধ্যে আইন আকারে পাশ হবে। আইন আকারে পাশ হয়ে আইন মন্ত্রণালয় ভেটিং হয়ে আমাদের কাছে যাওয়ার পরেই, তারপর আমরা কোন নির্বাচনটি আগে করব কোনটি পরে করব পাঁচটি স্তর, পাঁচটি নির্বাচন তো আর একসাথে করা সম্ভব না। অর্থের ব্যাপার আছে, ব্যয়ের ব্যাপার আছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে, এখানে নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার আছে। সব মিলিয়ে আমাদের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাবিনেটে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে কোন নির্বাচনটি আগে করব কোনটি পরে করব। এই সমস্ত নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের যে রাজনৈতিকভাবে যে সমস্ত প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া আছে সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পরিষদে এবং উপজেলা পরিষদে যারা প্রশাসক আছে তারাই দায়িত্ব পালন করবেন।
সিটি কর্পোরেশনে কাউন্সিলর পর্যায়েও প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হতে পারে কিনা এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা প্রশাসকদের আমরা দায়িত্ব দিয়েছি সম্ভবত দুই দিন অফিস করেছে। আসলে ১২ জন প্রশাসক কাজ শুরু করার পরে তাদের যদি সমস্যা মনে হয় বা জনগণের কাছ থেকে যদি এই বিষয়ে কোনো দাবি আসে, তারা যদি আমাদেরকে জানায় তখন এটা আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।