জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও ত্রাণ পৌঁছে দিতে কোস্টগার্ড, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বন্যা দুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, ও সাঈদ আল নোমান, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।
মতবিনিময় শেষে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, খাল-নালা দখল ও জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণেই দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে। গতকাল অনেক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাঁশখালীর সব স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খুব দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। খাল দখল, জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। অতীতে প্রভাবশালীরা আইনের তোয়াক্কা না করে এসব অনিয়ম করেছেন। বর্তমান সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কাজ করছে। তবে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। নালা-ড্রেন পরিষ্কার রাখলে পানি সহজে খালে এবং খাল থেকে নদীতে প্রবাহিত হতে পারবে, ফলে জলাবদ্ধতাও কমে আসবে।