স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা

পাকিস্তানি বর্বর সামরিক বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামের ভেতরে ঢুকে যায় বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চের রক্তনদী পার হয়ে যে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়, তাকে আমাদের সব অর্জনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে বিশ্বাস করি। আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে ওই যুদ্ধ পরম্পরায় গেঁথে গেছে যে, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। কারণ কালরাতের ভেতরে লুকিয়ে আছে স্বাধীনতাকামী হাজার হাজার মানুষের আত্মবলিদান। আমাদের এই অর্জন শুধু বিজয়, দেশের সীমানা আর একটি দেশের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ঐশ্বর্যই দান করেনি, বরং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথও নির্মাণ করে দিয়েছে। আমাদের স্মৃতিসত্তায় রেখে গেছে অগণন শহীদের রক্তস্রোত, যা নিত্যদিনের প্রেরণার উৎস। এই উৎস আমরা কখনোই অমøান হতে দেব না। এই ধারাবাহিকতায় আজ নির্মাণ করে চলেছি আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর ভিত্তিভূমি। রক্তদান আর বিজয়ের যৌথ প্রযোজনায় সৃষ্টি বাংলাদেশ, কখনো কোনো পৈশাচিক বর্বরতার কাছে মাথা নত করেনি, করবে না। সংগ্রাম-যুদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় আমাদের রক্ত ও চিন্তার প্রবাহে বহমান।

সেই ধারায়ই বাংলাদেশ চলছে। সামনের দিনগুলোতে এই ধারাস্রোতই আমাদের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- নির্মাণ করবে উন্নয়নের পিলারগুলো। পেছনে পড়ে থাকা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে আনতে হবে সরকারকে। গ্রামগঞ্জের মেহনতি মানুষই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান শক্তি ছিল। আজও তারা মহানগরের রাজনৈতিক শিল্পের লোকেদের প্রত্যাশার ফসল ফলিয়ে তুলছে, গ্রাসের অন্ন সরবরাহ করছে। অথচ তারা কিছুই দাবি করছে না সরকারের কাছে। এই নির্লোভ কৃষি সমাজ, এই প্রগতির মালিকানার দাবিদার শ্রমজীবীদের দিকে ফিরে তাকানোর সময় এসেছে নতুন গণতন্ত্রে অভিসিক্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের। আমরা দেখতে পাচ্ছি কাজ-কর্মে এ সরকার জনগণ-অভিসারী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড প্রদানের যে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সূচনা আমরা দেখছি, তা কৃষিবিপ্লবের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে। জনগণের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য ও ন্যায়-কল্যাণবোধের এই উন্মেষ আমাদের নিয়ে যাচ্ছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বিজয়ের মৌলিক লক্ষ্যে।

আমরা শুরু করেছিলাম অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার সংগ্রাম দিয়ে। আমাদের উৎপাদিত ফসল যেন আমাদের গ্রহের ডোরেই থাকে, সেই চেষ্টা করতে শুরু হয় প্রতিবাদ। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচিভিত্তিক প্রতিবাদ পাকিস্তানি কর্ণকুহরে ঢোকেনি। তারা অবহেলা করে আমাদের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন চাপিয়ে দিয়েছিল। আমরা সেই চাপানো শেকড় উপড়ে দেয়েছি ১৯৭১ সালেই বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। আজ যদি স্বাধীন দেশে সেই নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা চলতে থাকে, তাহলে দেশটি যে স্বাধীন হয়েছে, তা কি বলতে পারব? যদিও তারেক রহমান বিষয়টি ভালো বুঝেছেন। শোষণ, বঞ্চনার শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে তাই ঘরের কেন্দ্র নারীকে প্রধান করেছেন। তার হাতে তুলে দিয়েছেন ফ্যামিলি কার্ড। উৎপাদক কৃষকের হাতে তুলে দিয়েছেন ফসল ফলানো অর্থনৈতিক হাতিয়ার। এই পথই স্বাধীনতাকে শক্তপোক্ত করার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পথ। বর্বর পথের বিপরীতে উৎপাদনের এই পথই সঠিক নিশানায় পৌঁছার তরিকা। কোনো বাণীর বৈভব, কথামালার রাজনীতি নয়। সরকার যেমন কাজে বিশ্বাসী, রাজনৈতিক চরিত্রকে সেটা সম্যক উপলব্ধি করতে হবে। বেশি করে বুঝতে হবে বিএনপিকে, দলীয় লোকদের। তারা যেন এমন কোনো কাজ না করেন যা দলের ইমেজ, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা আর বিজয়ের অবদান মøান হয়ে যায়। তারেক রহমান যে দূরদৃষ্টির দুয়ার উন্মুক্ত করেছেন, তা সফলতার শীর্ষে উড়–ক, এই প্রত্যাশা আমাদের।