অবিশ্বাস্য

ছাগল বোকা নয়

গৃহপালিত প্রাণী ছাগল, সুখী মানুষ এবং অসুখী মানুষের কণ্ঠস্বরের পার্থক্য বুঝতে পারে। গবেষকদের ধারণা, মানুষের বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুভূতির ফারাক বুঝেছে ছাগল। গবেষণা অনুযায়ী, ছাগলের অনুভূতিবিষয়ক বুদ্ধি রয়েছে এবং তারা মানুষের মনোভাবের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারে। ফলে ছাগলকে বোকা বলা ঠিক হবে না। গবেষণায় যা উঠে এসেছে, তা চমকে যাওয়ার মতো। আপনার কণ্ঠস্বর শুনেই কিন্তু ছাগল বুঝতে পারে, আপনার মনে কী চলছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যালান ম্যাকএলিগটের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল ছাগলের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ছাগল সুখী, দুঃখী কিংবা রাগান্বিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বরের পার্থক্য করতে সক্ষম। প্রাণীটি প্রায় ১০ হাজার বছর ধরে মানবজাতির সঙ্গে রয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা ছাগলগুলোর সামনে ‘এদিকে তাকাও’ বাক্যটি বাজিয়েছিলেন। একই বাক্য রাগান্বিত ও কোমল কণ্ঠে ছাগলগুলোর কানের ধারে বাজান তারা। সেই সময় বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন, রাগান্বিত কণ্ঠ শুনে এক রকম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে ছাগলগুলো। অন্যদিকে কোমল স্বর শুনে অন্যরকম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। দেখা যায়, কোমল বা সুখী কণ্ঠ বাজানোর সময় স্পিকারের দিকে আবেগময় দৃষ্টিতে ছাগলগুলোকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। পশু আচরণবিষয়ক গবেষক ও অধ্যাপক ম্যাকএলিগটের কথায়, কুকুর ও ঘোড়ার মতোই মানুষের মুখের অভিব্যক্তি পড়তে পারে ছাগল। তবে এই দক্ষতা ছাগল কীভাবে অর্জন করেছে, তা জানার জন্য গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।