ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক সম্পত্তির জায়গার গাছ বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের শটগানের গুলিতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার চতুল মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির মিন্টু (৫২)। অভিযুক্ত বড় ভাই ডা. গোলাম কবিরকে (৭২) স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং তার নিজ নামে বোয়ালমারীতে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট আছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য। এ ছাড়া তিনি নিজেকে জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি বলে পরিচয় দিতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাইদের সঙ্গে গোলাম কবিরের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে পৈতৃক সম্পত্তিতে থাকা জায়গার গাছ বেচাকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে একটু দূরে রেললাইনের পাশে গোলাম কবিরের সঙ্গে তার অপর দুই ভাইয়ের বচসা হয়। এক পর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শটগান দিয়ে তার ছোট ভাই মিন্টু কবিরের বুকে গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিন্টুর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্ত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা গোলাম কবিরকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়ি ও বাড়ি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অভিযুক্তকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকেই হত্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) আজম খান বলেন, পৈতৃক জমিতে থাকা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে গোলাম কবির মিন্টুকে গুলি করেছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই বোয়ালমারী উপজেলার পৌরসদরের চৌরাস্তাসংলগ্ন খান প্লাজা ভবনে ডা. গোলাম কবির ও ভবনের মালিক সালমা বেগমের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে ডা. গোলাম কবির শটগান প্রদর্শন করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ডা. গোলাম কবিরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি প্রায়শই তার লাইসেন্স করা শটগান দিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাতেন বলে অভিযোগ আছে।