আজ বৃহস্পতিবার বার্গামোর স্টাডিও ডি বার্গামোতে এক ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইতালি ও উত্তর আয়ারল্যান্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে এটি উয়েফা অঞ্চলের প্লে-অফ সেমিফাইনাল। তবে ইতালিয়ানদের জন্য এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং গত এক দশকের ব্যর্থতা আর ট্র্যাজেডি মুছে ফেলার শেষ সুযোগ।
খাদের কিনারায় ইতালি : ২০১৮ এবং ২০২২ টানা দুটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাঝে ইউরো ২০২০ জয় করে আশার আলো দেখালেও, নর্থ ম্যাসিডোনিয়ার কাছে হেরে কাতার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়াটা ছিল এক বড় ধাক্কা। এবার জেনারো গাত্তুসোর অধীনে ইতালি আবারও সেই একই সমীকরণের সামনে। সরাসরি কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন প্লে-অফের কঠিন পথে।
কোচ গেন্নারো গাত্তুসো, যিনি ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য, বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের ওপর এই চাপের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে তারা মাঠে হালকা বোধ করে।’ গাত্তুসো বলেন, ‘আমাদের কোনো অজুহাত দিলে চলবে না। সঠিক মানসিকতা ও প্রশান্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমাদের অবশ্যই পরিষ্কার মাথায় খেলতে হবে এবং বিপদের গন্ধ আগেভাগেই বুঝতে হবে।’
গাত্তুসোর রণকৌশল : উত্তর আয়ারল্যান্ড দলগতভাবে বেশ সুসংগঠিত এবং তারা মূলত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতেই বার্গামোতে আসবে। কোচ গাত্তুসোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই ‘ডিপ ব্লক’ রক্ষণ ভেঙে গোল বের করা।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ : নিকোলো বারেল্লা ইতালির আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি। তিনি যদি মাঝমাঠ থেকে গতি সঞ্চার করতে পারেন, তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রক্ষণ চাপে পড়বে। তার সঙ্গে লোকাতাল্লি বা ক্রিস্তান্তে রক্ষণ সামলালে বারেল্লা আক্রমণে বেশি সময় দিতে পারবেন।
উইংয়ের ব্যবহার : উত্তর আয়ারল্যান্ড মাঠের মাঝখানটা ব্লক করে রাখবে। তাই ফেদেরিকো ডিমার্কো এবং আন্দ্রেয়া কাম্বিয়াসোর মতো উইং-ব্যাকদের ক্রসিং এবং ওভারল্যাপিং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
স্ট্রাইকার নির্বাচন : আক্রমণে মাতেও রেতেগুইয়ের শারীরিক উপস্থিতি অথবা গিয়াকোমো রাসপাদোরির চতুর ড্রিবলিং গাত্তুসো কাকে আগে নামান সেটিই দেখার বিষয়।
কাগজে-কলমে ইতালি অনেক শক্তিশালী দল। দোন্নারুমা, বাস্তোনি আর ক্যালফিওরিদের নিয়ে গড়া রক্ষণভাগ এবং বারেল্লার মতো মিডফিল্ডার নিয়ে জয় পাওয়াটা সহজ হওয়ার কথা। তবে ইতালির জন্য এটি কেবল ফুটবল দক্ষতার লড়াই নয়, বরং স্নায়ুর লড়াই। দ্রুত গোল না পেলে বার্গামোর গ্যালারিতে গত দুবারের ব্যর্থতার স্মৃতি ফিরে আসতে পারে।