‘জেলেই মরবেন, তবু আদর্শ ছাড়বেন না ইমরান’

পাকিস্তানের রাজনীতিতে কারাবন্দী ইমরান খানকে দমানোর সব চেষ্টাই যেন ব্যর্থ হচ্ছে। আদিয়ালা জেলে বন্দী সাবেক এই বিশ্বজয়ী অধিনায়কের মানসিক শক্তি এখনো অটুট। সম্প্রতি দীর্ঘ ব্যবধানের পর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম। সেই আলাপের সূত্র ধরে তাঁরা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে মানসিকভাবে ভাঙার চেষ্টা করলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস নয়।

গত সপ্তাহের শেষে প্রায় ২৮ মিনিট বাবার সঙ্গে কথা বলেন সুলাইমান ও কাসিম। ২০২২ সালের পর এই প্রথম বাবার কণ্ঠ শুনতে পেলেন তাঁরা। কাসিম বলেন, “আমরা তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বরাবরের মতোই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাইলেন না। শুধু বললেন, ‘আমি ভালো আছি’।” তবে ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে বলে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন। যদিও ফোনে সন্তানদের তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁর দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে কিছুটা ভালো।

কারাগারের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় ইমরান খান এখন নিয়মিত ধ্যান (মেডিটেশন) করছেন। কাসিম জানান, প্রথম কয়েকদিন খুব কঠিন কাটলেও এখন তিনি আধ্যাত্মিকভাবে অনেক শান্ত। এমনকি সেলে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া বা নতুন বই পড়তে না দেওয়ার মতো ‘ক্ষুদ্র ও নিচ’ কৌশলের বিপরীতে নিজেকে স্থির রাখতে শিখে গেছেন তিনি। কাসিমের ভাষায়, “নির্যাতনের কৌশলগুলোই উল্টো তাকে দীর্ঘ সময় একাকী লড়তে শিখিয়ে দিয়েছে।”

নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়েও স্ত্রী বুশরা বিবির ওপর চলা আচরণ নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ইমরান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য তাঁর স্ত্রীকে অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছে। সুলাইমান বলেন, “বাবা বলেছেন—কর্তৃপক্ষ জানে তারা তাঁকে ভাঙতে পারবে না। কিন্তু যখন পরিবারের ওপর আঘাত আসে, তখন লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যায়।”

ইমরান খানের ছেলেরা এখনো পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসার অপেক্ষায় আছেন। সুলাইমান জানান, এর আগে আততায়ী হামলা থেকে বেঁচে ফেরা তাঁর বাবার জেদ এখন আগের চেয়েও বেশি। তিনি বলেন, “বাবা প্রকাশ্যে বলেছেন—তিনি তাঁর আদর্শ থেকে সরে আসার চেয়ে জেলেই মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করবেন।”

বর্তমানে তোশাখানা ও আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন এই পিটিআই নেতা। তাঁর দল অভিযোগ করেছে, সঠিক চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে চেকআপের সুযোগ থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।