আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা সম্প্রতি সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ডের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিয়েগো ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলো নিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন ও রূঢ় মন্তব্য করেছেন। ২০২০ সালের নভেম্বরে ম্যারাডোনার চলে যাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ‘বাতিগোল’ খ্যাত এই তারকা আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে ম্যারাডোনা ছিলেন একেবারেই একা।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে কেউ না থাকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ৫৭ বছর বয়সী বাতিস্তুতা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কারণ তিনি একজন মহান মানুষ ছিলেন। কিন্তু তিনি মারা গেছেন একেবারেই নিঃসঙ্গ অবস্থায়। তাঁর সাথে কেউ ছিল না। তিনি কুকুরের মতো একা মারা গেছেন।’
নিজেকে দোষারোপ করে বাতিস্তুতা বলেন, ‘আমি নিজেকেও অভিশাপ দেই। কারণ আমি হয়তো তাঁর অন্যতম অবলম্বন হতে পারতাম। যখন কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন আপনি চাইলে এগিয়ে আসতে পারেন।’ বাতিস্তুতার মতে, ম্যারাডোনা যখন তরুণ ছিলেন তখন তাঁকে কেউ কোনো কাজে ‘না’ বলেনি, যা ছিল একটি বড় ভুল।
লিওনেল মেসির সঙ্গে ম্যারাডোনার একটি তাত্ত্বিক তুলনাও করেছেন বাতিস্তুতা। তার মতে, মাঠে দক্ষতার দিক থেকে দুজনই অতুলনীয় হলেও ব্যক্তিত্বের দিক থেকে ম্যারাডোনা ছিলেন যোজন যোজন এগিয়ে। বাতিস্তুতা বলেন, ‘ম্যারাডোনা এবং মেসি আলাদা। মেসি ১০০০ গোল করেছে আর ম্যারাডোনা ২০০। মেসি শান্ত স্বভাবের ছেলে, ম্যারাডোনা তেমন ছিলেন না। ম্যারাডোনা ছিলেন অনন্য উচ্চতায়, কারণ তিনি খেলা পরিচালনার পাশাপাশি রেফারি এবং প্রতিপক্ষকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। মেসি অবিশ্বাস্য সব কাজ করতে পারেন, কিন্তু আমার মনে হয় না তাঁর মাঝে ম্যারাডোনার মতো কারিশমা আছে।’
ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর বাতিস্তুতা যে ভয়াবহ শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন, সে বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি। ২০১৯ সালে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়। এক সময় যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি চিকিৎসকদের পা কেটে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন। বাতিস্তুতা বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্যি। আমি আর ব্যথা সহ্য করতে পারছিলাম না। ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু কেড়েও নিয়েছে অনেক।’