কুমিল্লায় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা: এবার বদলি গেটম্যানসহ নাজমুল গ্রেপ্তার

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন ও বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় এবার বদলি গেটম্যান কাওসার হোসেন (২০) ও নাজমুল হোসেন (৩৩) কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব- ১ এবং ১১। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পৃথক ২টি অভিযানে ঢাকা জেলার গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ও কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক, সিনিয়র সহকারী পরিচালক, সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুণ্ডু সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

কাওসার হোসেন দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর ইউপির কুতইড় গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। নাজমুল হোসেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের হেদায়েত উল্লাহর ছেলে।  

সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, দুর্ঘটনার দিন কাউসার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে তিনি ওই ডিউটি নেন। তদন্তে তার ভূমিকার প্রমাণ মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলার লাকসাম রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, গেটম্যান দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ সিগন্যাল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাব কুমিল্লার শশীদল এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি গেটম্যান হেলাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে0 তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

তবে মামলার আরেক আসামি ওয়েম্যান মেহেদী হাসান এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার সোমবার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। নিহত সোহেল রানার তিনি খালা।

উল্লেখ্য- গত শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে ‘মামুন স্পেশাল’ নামের যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।