পদ্মায় বাস ডুবি

তিন বছরের ইসরাফিলকে হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন মা

পদ্মায় বাসডুবিতে তিন বছরের ইসরাফিলকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা নুরুন্নাহার। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়- বাসটি তলিয়ে যাওয়ার সময় সবাই বাসের ভেতর ঘুরতে থাকে। কখন কিভাবে বের হয়েছি কিছুই মনে নাই। শুধু কানে চিৎকার শুনতে পেয়েছি। ভেসে ওঠার পর কয়েকজন আমাকে একটা দড়ির সাহায্যে টেনে তোলে। উঠে নৌকার ওপর স্বামীকে দেখতে পাই। কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাইনি।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আহাজারি করতে করতে এভাবেই একমাত্র ছেলেকে হারানোর কথা বলছিলেন নুরুন্নাহার।

জানা যায়, নুরুন্নাহারের বাবার বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। ঈদের ছুটি শেষে পাংশা বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইসরাফিলকে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন নুরুন্নাহার-দেলোয়ার দম্পতি। বাসের পেছনের দ্বিতীয় সারিতে বসে ছিলেন এই দম্পতি। এ সময় বাবা দেলোয়ার হোসেনের কোলে ছিল তিন বছরের ছেলে ইসরাফিল হোসেন। নুরুন্নাহারের স্বামী দেলোয়ার হোসেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেন।

ছেলের দাফন শেষে দুপুরে খোকসা উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেলোয়ার হোসেন জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে ধাক্কা লেগে পেছনের যাত্রীরা সামনের দিকে চলে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বাস তলিয়ে যেতে থাকে। ইসরাফিলকে বুকে জড়িয়েই তলিয়ে যেতে থাকি। একপর্যায়ে ছেলে হাত থেকে ছিটকে যায়, এরপর কিছু মনে নাই। আমি কীভাবে ভেসে উঠছি তা আল্লাহ জানেন।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। পরে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় বাসটি। এ ঘটনা নিহতদের মধ্যে চার জনের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায় বলে জানা গেছে।