চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই পর্যটক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন। নিহতরা হলেন ঢাকার উত্তরখান থানার আটিপাড়া এলাকার শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে শরীফুল ইসলাম (৩০) এবং একই এলাকার অলিউল ইসলামের ছেলে রাইসুল ইসলাম (৩০)।
পুলিশ জানায়, শরীফুল ও রাইসুল মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বন্ধুও অন্য মোটরসাইকেল নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। ভোরে চট্টগ্রাম থেকে আসা লাল-সবুজ পরিবহন সার্ভিসের একটি যাত্রীবাহী বাস একই দিকগামী একটি মোটরসাইকেল ও ট্রাককে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। বাসটির ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে দুই আরোহী আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শহীদ রিয়া গোপ স্টেডিয়ামের সামনে গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় লতা রানী ম-ল (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত লতা রানী ম-ল ফতুল্লার পিলকুনি এলাকার সুখ রঞ্জন ম-লের স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় রিয়া গোপ স্টেডিয়ামের সামনে দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় বেপরোয়া গতিতে কুষ্টিয়া থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৫৭৫৩) লতা রানী ম-লকে চাপা দেয়। এরপর বাসটি সামনে থাকা আরেকটি কাভার্ড ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে শ্যামলী পরিবহনের বাসটি সামনের অংশ ও জানালা ভেঙে যায়। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় লতা রানী ম-লকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় বাস রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, নিহত লতা রানীর লাশ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
অন্যদিকে, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে যাত্রীবাহী বাস চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সাপছড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ১৯ যাত্রী আহত হয়েছে। গতকাল দুপুরে সাপছড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে যান। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ছাড়া পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গত বুধবার রাত ১১টায় চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় উক্যসিং মারমা নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। যাত্রী জুঁই ও রাহুল চাকমা বলেন, বাসটিতে প্রায় ৫০ যাত্রী নিয়ে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। সবাই চট্টগ্রামের বিভিন্ন পোশাক তৈরি কারখানায় কর্মরত।
চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম বলেন, বাসটি চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাকিদের অন্য একটি বাসে চট্টগ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।