বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ

সারা দেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

খুলনা : গতকাল প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সকালে শহরের গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ করে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক জামশেদ খোন্দকার, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, খুলনা প্রেস ক্লাব, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শ্রম দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিএনপি জেলা ও মহানগর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের পর নগরীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী প্রমুখ।

এ ছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

গাজীপুর : সকালে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, জেলা পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিনসহ অন্য সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছাড়াও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, গাজীপুর প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে সকালে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে শরীরচর্চা প্রদর্শনী ও কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) নানা কর্মসূচি পালন করে।

বান্দরবান : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ৮টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনজুরুল হকসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে মনোমুগ্ধকর শরীরচর্চা ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। পরে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করেছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস- ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পিরোজপুর শহরের ভাগীরথী চত্বরের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।

নোয়াখালী : প্রথম প্রহরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে জেলা পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। ভোরের আলো ফুটতেই নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১১টায় শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, দুপুরের সরকারি শিশু পরিবারে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ, সন্ধ্যায় আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

গোপালগঞ্জ : সকাল ৬টা ১ মিনিটে গোপালগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসক আরিফ উজ জামান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ। এর পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযোদ্ধারা।

ভোলা : সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জেলার গজনবী স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় বর্ণিল কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এরপর জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রঙিন বেলুন উড্ডয়ন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান। একই সঙ্গে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। কুচকাওয়াজে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, জেলা কারাগার, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, স্কাউট এবং সরকারি শিশু পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। মনোজ্ঞ এই প্রদর্শনী শেষে শ্রেষ্ঠ দলগুলোর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পঞ্চগড় : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। এখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপি, পঞ্চগড় প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদের মাগফিরাত ও দেশ জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে জেলার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলো জাতীয় পতাকা ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মাগুরা : ভোরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীনতার অমøান স্মৃতিকে নতুন করে উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সকাল ৬টায় শহরের নোমানী ময়দানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্যা আজাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবীর প্রমুখ। এ ছাড়া বিএনপি, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাঙ্গামাটি : সকালে জেলার নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিতে বিজিবির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়েছে। স্বাধীনতার এই বীর সেনানীর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাঙ্গামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম। এরপর রাঙ্গামাটি সদর সেক্টরের পক্ষে পুষ্পস্তবক প্রদান করা হয়। পরে বীরশ্রেষ্ঠর আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

বগুড়া : সকালে জেলা শহরের মুক্তির ফুলবাড়ীতে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, জেলা  বিএনপি, বগুড়া প্রেস ক্লাবসহ সরকারি দপ্তর, বেসরকারি দপ্তর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ ব্যক্তি পর্যায়ের অনেকে। এরপর সকাল ৮টায় কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর ১২টায় শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।