ব্রাজিল-ফ্রান্স গত রাতের ম্যাচের আগে ব্রাজিলের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকার দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্তমান ব্রাজিল দলকে কি ‘ভিনি জুনিয়রের দল’ নাকি ‘নেইমারের দল’ বলা উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে ফরাসি নাম্বার ১০ তার প্রাক্তন পিএসজি সতীর্থের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্যারিসে তাদের সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও, এই তারকা তার মন্তব্যে বেশ প্রশংসা ঝরিয়েছেন।
‘আমি বিশ্বাস করি এটি দুটিই হতে পারে। ভিনিকে এখন জাতীয় দলে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে হবে, কিন্তু নেইমার তো নেইমারই। নেইমার একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ হলো তারকাদের লড়াই। সব তারকা এখানে আছে এবং আমার মতে নেইমার অন্যতম সেরা তারকা। নেইমারকে ছাড়া আমি বিশ্বকাপের কথা ভাবতেই পারি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমি আমার প্রাক্তন কোচ আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না। আমাকে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।’
এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার কাছে নেইমার এমন একজন খেলোয়াড় যে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আমি তার সঙ্গে খেলেছি, তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন দেখার বিষয় তিনি কেমন আছেন। তবে আমি নেইমারকে চিনি, তিনি নিজেকে প্রস্তুত করবেন, তিনি সেখানে থাকবেন, আমি তাকে চিনি (হাসি)।’
ফ্রান্স বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে ভালো অবস্থানে আছে এবং ২০০৬, ১৯৯৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে পরাজিত করেছে। এই প্রীতি ম্যাচে তারা ফেভারিট কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করেন, ‘যাদের জার্সিতে পাঁচটি তারকা আছে, এমন একটি দলের বিপক্ষে আপনি কখনোই ফেভারিট হতে পারেন না। অসম্ভব। ব্রাজিল হলো ফুটবলের শ্রেষ্ঠ জাতি। জার্সিতে পাঁচটি তারকা, পাঁচটি বিশ্বকাপই হলো ইতিহাস। আমাদের জন্য এটি ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার একটি সুযোগ, আমাদের মান এবং ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ, এবং এই গ্রীষ্মে বিশ্বকাপ জয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার একটি মাধ্যম।’
ভক্তরা এমবাপ্পেকে বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখেছে, কিন্তু তাকে এখনো কোপা লিবার্তোদোরেসে অ্যাকশনে দেখা বাকি। জবাবে বেশ রসিকতা করে তিনি বন্ধু ভিনি জুনিয়রকে একটি অনুরোধ করার কথা বলেন। ‘কে জানে? আমরা কখনোই জানি না কী হতে যাচ্ছে। আমি ভিনিকে জিজ্ঞেস করব সে আমাকে কোপা লিবার্তোদোরেসে ফ্লামেঙ্গোর একটি ম্যাচ দেখতে যেতে দেবে কি না।’
দেশের হয়ে দিদিয়ের দেশম এবং রিয়াল মাদ্রিদে কার্লো আনচেলত্তি এই দুজন দুর্দান্ত কোচের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আপনার কাছে এর মানে কী এমন প্রশ্নে এমবাপ্পে বলেন, ‘সত্যিই দারুণ ব্যাপার হলো তারা সম্পূর্ণ আলাদা, ফুটবলের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটি আমার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ কারণ আমি জেতার এবং ফুটবল শেখার দুটি ভিন্ন পথ দেখছি। দেশমকে পাওয়া গর্বের বিষয় এবং আমি ভাগ্যবান যে কার্লোকে মাত্র এক বছরের জন্য পেয়েছি, তবে কোচ হিসেবে কার্লোর প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান ও প্রশংসা রয়েছে।’