যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তেলআবিবের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ঢল। ইহুদিবাদীরা রাস্তায় নামায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নেতানিয়াহু সরকার। খবর: সিএনএন ও আলজাজিরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে হাবিমা স্কোয়ারে আয়োজিত বিশাল যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অন্তত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।
বিক্ষোভের আয়োজক তথা আইনের ছাত্র ইতমার গ্রিনবার্গ। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মধ্যে শনিবারের জমায়েতটি ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১২০০ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে মাত্র ২০ জন নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের সমর্থন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্রিনবার্গের মতে, আগে কেবল ইসরায়েলের কট্টর বামপন্থিরাই এই যুদ্ধে বিরোধিতা করতেন, কিন্তু বর্তমানে উদারপন্থি ইহুদিবাদীরাও এই আন্দোলনে শামিল হতে শুরু করেছেন। ইসরায়েলি জনমত সাধারণত যুদ্ধের পক্ষে থাকলেও, শনিবারের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে এক ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যেই এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধরপাকড় সত্ত্বেও তারা আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
এতদিন ইসরায়েলের যুদ্ধপন্থি মনোভাব প্রায় একপাক্ষিক থাকলেও, এখন উদারপন্থি ইহুদিবাদীদের রাস্তায় নামা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামি নেতানিয়াহু সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের ব্যয়ভার, রিজার্ভ সেনাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তা সাধারণ ইসরায়েলিদের মধ্যে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘সহিংস’ আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজর কেড়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো এই গ্রেপ্তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও চলছে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ। একদিকে গাজায় চলমান অভিযান, অপরদিকে ইরানে যুদ্ধের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।