যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। গত ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে দুই বছরের একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দেশটি। ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিকাদেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা তেহরানের রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য নেই, তাই অনেক দেশই ওয়াশিংটনের হুমকি উপেক্ষা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। খবর আলজাজিরার।
সংকট মোকাবিলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা মজুদ করার নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্পাতি জানান, প্রধান আয়ের উৎস তেল রফতানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য রিজার্ভের কোনো ঘাটতি নেই। তবে তিনি অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কড়া ধকল সহ্য করা আর পুরো অর্থনীতি ভেঙে পড়া এক জিনিস নয়।
সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মহাজেরানি সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী এক বছর পরিস্থিতি সহজ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মুক্তবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান সর্বনিম্ন ২০ লাখ ৫০ হাজারে নেমে গিয়েছিল, যা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সাবেক নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই দেশটির তরুণদের ঘরে বসেই বিভিন্ন গৃহস্থালি ও প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রায় ৯ কোটি মানুষের জন্য খাদ্য নির্ভরতা কমাতে কৃষি উৎপাদন ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তবে গম, চাল ও উদ্ভিজ্জ তেলের মতো মৌলিক খাদ্যের জন্য এখনও আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ইরানকে। খাদ্য পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ১২৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশের পরিসংখ্যান কার্যালয়।
খাদ্য ছাড়াও ওষুধ খাতে চরম সংকটে পড়েছে দেশটি। প্রায় ১ হাজার ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দামও হু-হু করে বাড়ছে। একই সাথে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার কারণে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে দৈনিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সংকট এড়াতে সরকার দুইটি নতুন রিফাইনারি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা থেকে দিনে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ লিটার জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
অর্থনীতিবিদ সাদেক আলহোসেইনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষ এড়াতে সরকারকে জ্বালানির দামে ‘কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় নীতি’ গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী এই চাপ ও সম্পদ হ্রাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইরান নিজেদের টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় কমল তেলের দাম