বিসিবির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন থেকে শুরু করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা- এমন সব অভিযোগ আছে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তদন্তও শুরু হয়েছে। তাই জল্পনা ছিল, অস্ট্রেলিয়া থেকে বিসিবি সভাপতি আদৌ দেশে ফিরবেন কিনা। তবে সব জল্পনাকল্পনা আর গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বুলবুল।
গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বিসিবির একাধিক পরিচালক ও দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বুলবুল এমন এক সময়ে দেশে ফিরলেন যখন বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে চলছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ও পবিত্র রমজান উদযাপনের কথা বলে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিসিবির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির বৈধতা নিয়ে বিতর্কের মুখে তার এই সফর নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন ওঠে। ধারণা করা হচ্ছিল, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি হয়তো আর দেশে ফিরবেন না। বিসিবির পক্ষ থেকে ২৬ বা ২৭ মার্চের মধ্যে ফেরার কথা জানানো হলেও সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছিল।
গত অক্টোবরের সেই বিসিবি নির্বাচনকে ‘অস্বচ্ছ ও অবৈধ’ দাবি করে এরই মধ্যে অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত সংগঠক ও কাউন্সিলরদের একাংশ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, আগামী এপ্রিলের শুরুতেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার বিষয়েও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসে থাকাকালীন তদন্ত কমিটি বুলবুলের সঙ্গে একাধিকবার অনলাইন ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছে। এখন তিনি দেশে ফেরায় তাকে সরাসরি কমিটির সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। বিশেষ করে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর কাছে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউন্সিলরশিপ চেয়ে চিঠি দেওয়ার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে ফিরলেও বিসিবি সভাপতির জন্য সামনের দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন এবং নেতৃত্বের বৈধতা প্রমাণের ওপরই নির্ভর করছে তার ও বর্তমান কমিটির ভবিষ্যৎ। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হতে পারে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থার ভাগ্য।