ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের গন্না গ্রামের গৃহবধূ সাফিয়া বেগম-(৬৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-১-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি দল গত শনিবার গভীর রাতে (২৮ মার্চ) হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের উচাইল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার (২৯মার্চ) দুপুরে র্যাব-৯-সিলেট অফিসের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। নিহত সাফিয়া বেগম নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের গন্না গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের গন্না গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের মো. ইদন মিয়া(৬০) এবং ইদন মিয়ার ছেলে মো. মকসুদ আলি। তাদের মধ্যে ইদন মিয়া মামলার প্রধান আসামী ও তার ছেলে মকসুদ আলী মামলার ৪ নং আসামী।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে সাফিয়া বেগমের পরিবারের সাথে মামলার আসামীদের বিরোধ চলে আসছিলো। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আদালতে একাধিক মামলা চলমান। গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় সাফিয়া বেগমকে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাফিয়া বেগম মারা যান।
এই ঘটনায় নিহত সাফিয়া বেগমের ছেলে বাদী হয়ে গত ৩ মার্চ নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। মামলার পর পরই র্যাব-৯-এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে মামলার প্রধান আসামী মো. ইদন মিয়া ও তার ছেলে মকসুদ আলীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সাফিয়া বেগম হত্যা মামলার অন্যান্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।