১২ ঘণ্টা পর উত্তরের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন। জেল হাজতে আটক শ্রমিকদের আগামীকাল সোমবারের মধ্য মুক্তির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ১২ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। রবিবার রাত ৮টা থেকে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু।

পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ হুসাইন রাজু ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।

আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ, রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান (আতু), সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ অন্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ । 

পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু বলেন, শ্রমিকরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। রবিবার রাত ৮টা থেকে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পুরোদমে পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপোর কার্যক্রমম শুরু হবে।

জানা যায়, জ্বালানি তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরীর চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল জরিমানা করার প্রতিবাদে ও জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে। রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে পার্বতীপুরের রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে সকল ধরনের জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে ট্যাংকলরী শ্রমিকরা আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন। এ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। এর ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো (যমুনা অয়েল কোম্পানি) থেকে জ্বালানি তেল (ডিজেল, পেট্রোল) নিয়ে নীলফামারীর যাচ্ছিল। নীলফামারী জেলা শহরের জেল রোড এলাকায় তেলবাহী লরীতে যান্ত্রিকত্রুটি দেখা দেয়। গাড়ির কেবিন খুলে চালক শ্রীকৃষ্ণ এবং তার সহকারী (হেলপার) ইশতিয়াক ওরফে রিফাত গাড়ি মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভূঁইয়া ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় তেলবাহী লরী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরী সার্চ করে লরির কেবিনে থাকা দুটি জারকিনে (ক্যান) মোট ১৩ লিটার (১০ লিটার পেট্রোল ও ৩ লিটার ডিজেল) জ্বালানি তেল পান। ১৩ লিটার তেল অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রীকৃষ্ণ এবং চালক সহকারি রিফাতকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও তিনজনকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।