মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় এ বছর মুড়িকাটা (কন্দ) পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও বাজারদর কম থাকায় হতাশ কৃষকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজার সিন্ডিকেটের অভিযোগ। ব্যবসায়ীরা ৪০ কেজির বদলে ৪২ কেজিতে এক মণ অর্থাৎ প্রতি মণে ২ কেজি অতিরিক্ত বা ‘ঢলন’ ধরে পেঁয়াজ কিনছেন বলে দাবি চাষিদের। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বর্তমানে বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা দরে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় কম। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হরিরামপুর উপজেলায় ১ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে বাস্তবে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষক ও কৃষাণিরা পেঁয়াজ উত্তোলন ও মুড়িকাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা জানান, প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ১ থেকে দেড় মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু শতাংশপ্রতি চাষাবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে মণপ্রতি দাম মিলছে মাত্র ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকায়। এর ওপর বিক্রির সময় প্রতি মণে অতিরিক্ত ২ কেজি পেঁয়াজ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে প্রতি শতাংশে প্রায় ১ হাজার টাকার মতো লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা শিকদারপাড়া গ্রামের কৃষক ছানোয়ার জানান, তিনি ২৪ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। প্রতি শতাংশে ১ থেকে দেড় মণ ফলন হলেও বিক্রি করতে পারছেন ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা দরে। অথচ শতাংশপ্রতি খরচ হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে প্রতি শতাংশে প্রায় এক হাজার টাকার মতো লোকসান হচ্ছে।
পোদ্দারপাড়া গ্রামের কৃষক খোরশেদ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজের দাম অনেক কম। তিনি ৪ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না বলে জানান তিনি।
ঝিটকা বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. মিজান বলেন, বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দরপতন হয়েছে। মাসখানেক আগে যে পেঁয়াজ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে কেনা হয়েছে, এখন তা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ভেজা পেঁয়াজ ওজন কমে যায় এ কারণেই ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা হয় বলে দাবি করেন তিনি। বাজারের সবারই একই নিয়ম বলেও জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, হরিরামপুর পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য সমৃদ্ধ এলাকা। চলতি মৌসুমে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। কিছুদিন পর বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে ৪২ কেজিতে এক মণ ধরা প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ঝিটকা বাজার কমিটিকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে বরঙ্গাইল হাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কৃষকের ইচ্ছার বাইরে অতিরিক্ত পেঁয়াজ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।