শঙ্খ নদের চরে বাদামের বাম্পার ফলন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের শঙ্খ নদের চরাঞ্চলে ব্যাপকহারে বাদাম চাষ হয়েছে। উর্বর জমি, স্বল্প খরচ, সহজ পরিচর্যা ও নিশ্চিত লাভের আশায় দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে এই ফসলের প্রতি। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় বাদামের কয়েকটি জাতের আবাদ হয়েছে ১৫৭ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে ত্রি দানা ১৪৭ হেক্টরে, যা খুব জনপ্রিয় আর বারি চীনাবাদাম-৮ চাষ হয়েছে ১ হেক্টরে, বারি চীনাবাদাম-৯ চাষ হয়েছে ৭ হেক্টরে, বিনা চীনাবাদাম-৪ চাষ হয়েছে ১ হেক্টরে, বিনা চীনাবাদাম-৮ চাষ হয়েছে ১ হেক্টরে। বাদামচাষি খাগরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমীরখিল এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমি ৩৩ শতক জায়গার ওপর ত্রি দানা বাদাম চাষ করেছি। আমার খরচ হয়েছে ২৪ হাজার টাকা এবং আমি ১২ থেকে ১৩ মণ বাদাম পাবো বলে আশাবাদী। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাকে বাদাম প্রদর্শনীতে  বিনামূল্যে ৫৫ কেজি সার এবং ১৪ কেজি বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়। চাষের ৫ মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায় এবং পোকা আক্রমণের ঝুঁকি কম হওয়ায় লাভবান হওয়া যায়। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে খরচ কম এবং স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৪ হাজার টাকা খরচে গড়ে ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৪২০০ থেকে ৪৬০০ টাকা। ইতিমধ্যে অনেকে ধান ও অন্যান্য ফসল ছেড়ে বাদাম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে কৃষকরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, হঠাৎ বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং বাজারে দামের ওঠানামা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।  অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাদাম চাষ আরও বিস্তৃত হলে খাগরিয়া ইউনিয়নের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। খাগরিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছবি রানী দেবী বলেন, খাগরিয়া  ইউনিয়নে শুধু  মৈশামুড়া  ব্লকে বারি চীনাবাদাম- ৮ ও ৯ এবং ত্রি দানা চীনা বাদামের আবাদ হয়। বাদামের আবাদি জমির ১২ হেক্টর। খাগরিয়ায় এবার ১০ জন কৃষককে প্রণোদনা, ৪ জনকে ফলোআপ  এবং একজনকে প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খাগরিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার, কীটনাশক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার রেকর্ড পরিমাণ বাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা উপজেলায় ১৫ কেজি সার এবং ১০ কেজি বাদাম বীজ ৪০ জন কৃষককে কৃষি অফিস হতে বাদাম প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩ জন কৃষককে বাদামের প্রদর্শনী ও ১৫ জনকে বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।