সফল জিরাচাষি হামিদুর

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তে সাতকুড়ী গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান নিজের ৩ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে জিরা চাষ করে সফল হয়েছেন।  কৃষক হামিদুর রহমান কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের ৩ শতক জমিতে স্বল্প পরিসরে জিরা চাষ করে সফল হয়েছেন। ওই কৃষক অনলাইনের মাধ্যমে জিরার বীজ সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। মাত্র ৩ শতক জমিতে জিরা চাষ করে প্রায় ৫ কেজি জিরা উৎপাদন করেছেন। তার এই সফল জিরা চাষ এলাকার তরুণ ও যুবক কৃষকদের জিরা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করছে। কৃষক হামিদুর রহমান জানান, অনলাইনে জিরার বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেছি। আমাদের এলাকায় আগে কখনো জিরা চাষ হয়নি। প্রথমবার আমি নিজ উদ্যোগে ৩ শতক জমিতে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। আমার জমিতে উৎপাদিত জিরা উন্নতমানের এবং সুঘ্রাণযুক্ত।  বাজারের জিরার তুলনায় আমার উৎপাদিত জিরার সুগন্ধ অনেক ভালো। এতে আমি আরও উৎসাহ পেয়েছি। আগামীতে আমি আরও বেশি জমিতে জিরা চাষ করব বলে আশা রাখছি।

হামিদুর রহমানের উৎপাদিত জিরার গাছ অনেক ভালো এবং ফলন উৎকৃষ্টমানের । দেশের মাটিতে এভাবে জিরা চাষ সম্ভব, এটা ভাবতেই পারা যায় না। আগামীতে অনেকেই জমিতে জিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। হামিদুর রহমান আরও বলেন, খরচ তুলনামূলক কম। আবার ফলন পেতেও সময় কম লাগে। এটা কৃষকের জন্য লাভজনক হতে পারে।

হিলি বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা জিরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ওইসব জিরার তুলনায় কৃষক হামিদুর রহমানের উৎপাদিত জিরার মান অনেক ভালো। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, উন্নতমানের বীজ সংগ্রহ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এই ফলন সম্ভব হয়েছে। আগামীতে আমাদের দেশের মাটিতেই জিরা চাষে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ধরনের মসলা জাতীয় ফসলের চাষ বাড়লে এলাকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।