বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে হওয়া সব নিয়োগ, অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করা অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন জানতে চান, ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান কী। উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বোর্ডের অতীত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিসিবির সংস্কার নিয়ে সরব থাকা আমিনুল হক আজ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বোর্ডের বর্তমান স্থবিরতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্রিকেট বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা বোর্ডের সম্পত্তি ও প্রভাব ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা শুনে অবাক হবেন, বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী বিগত সময়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করার মতো অপকর্মে সহায়তা করেছে। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
২০০৮ সাল থেকে ক্রীড়াঙ্গনের অধঃপতন নিয়ে সমালোচনা করে আমিনুল হক বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ক্রিকেট বোর্ডসহ সব খেলাধুলাকে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল। এতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে ধ্বংসের মুখে চলে গেছে। ২০০৮ সাল থেকে চলা এই ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে মুক্ত করতে আমরা কাজ করছি।’
তিনি আরও জানান, বিগত ১৬ বছরে যারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের জাতির সামনে আনা হবে।
বোর্ডের ভেতরকার দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে প্রতিমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের কাছে আহ্বান জানাব এ বিষয়ে কোনো তদন্ত চলমান থাকলে তা যেন আমাদের অবগত করা হয়, যাতে আমরা প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরতে পারি।’
দেশের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সাবেক তারকা গোলরক্ষক আমিনুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত বিসিবি নির্বাচন নিয়েও তদন্ত চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।