ব্রাজিলের পর এবার কলম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

ফ্রান্স। এনএফএল দল ওয়াশিংটন কমান্ডারসের ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক একাদশ নামিয়েছিলেন দেশম। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা একাদশে ১১টি পরিবর্তন আনলেও ফরাসিদের খেলায় তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। উল্টো ৩-১ গোলের অনায়াস জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতির গভীরতা জানান দিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে প্রথম গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন পিএসজি তারকা দেজিরে দুয়ে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া নিচু শট কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার দানিয়েল মুনোজের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। রায়ান চেরকির পাস থেকে মার্কাস থুরামের বাড়ানো নিচু ক্রস দারুণ দক্ষতায় জালে পাঠান দুয়ে। 

প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক চার মিনিট আগে ব্যবধান ২-০ করেন মার্কাস থুরাম। মোনাকো মিডফিল্ডার মাঘনেস আকলিউশের চমৎকার ক্রস থেকে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে জোরালো হেডারে গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৩ নম্বরে থাকা কলম্বিয়া প্রথমার্ধে লুইস দিয়াজ ও হামেস রদ্রিগেসের কল্যাণে বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও গোলমুখ খুলতে পারেনি। বিশেষ করে অভিষিক্ত ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্সের দুর্দান্ত একটি ট্যাকেল লুইস দিয়াজকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা হ্যামিনটন কাম্পাজ কলম্বিয়ার হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন। এটিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর প্রথম গোল।

৩৫তম জন্মদিনে ফ্রান্স দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এন’গোলো কান্তে। মাঝমাঠে তাঁর চিরচেনা ব্লক এবং ট্যাকেলগুলো আজও ছিল দেখার মতো। ম্যাচের শেষের দিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নামলেও অফসাইডের কারণে তাঁর একটি গোল বাতিল হয়ে যায়। ফলে অলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোলের সর্বকালীন রেকর্ড স্পর্শ করতে এমবাপ্পেকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে এই জয় ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি দেবে। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে (ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্স) হার কলম্বিয়াকে তাঁদের রক্ষণভাগ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিল।