মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের অপ্রতিরোধ্য এক নাম ইয়ানিক সিনার। চেক তরুণ জিরি লেহেচকাকে সরাসরি ৬-৪, ৬-৪ সেটে উড়িয়ে দিয়ে মায়ামি ওপেনের শিরোপা জিতলেন ২৪ বছর বয়সী এই তারকা। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ইন্ডিয়ান ওয়েলস শিরোপাও জিতেছিলেন তিনি। টেনিস ইতিহাসে অষ্টম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে একই বছরে এই দুটি টুর্নামেন্ট জেতার ‘সানশাইন ডাবল’ পূর্ণ করলেন সিনার।
২০১৬ সালে নোভাক জোকোভিচ ও ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার পর এই প্রথম একই বছর নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগেই ‘সানশাইন ডাবল’ দেখার সৌভাগ্য হলো টেনিস বিশ্বের। তবে সিনারের জয়টি আরও বিশেষ। কারণ, প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই দুই টুর্নামেন্টের একটি সেটও না হেরে শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭০টি এস মেরেছেন এই ইতালিয়ান, যার ১০টিই এসেছে ফাইনালের দিন।
ম্যাচ চলাকালীন দুই দফায় বৃষ্টির কারণে ৯০ মিনিটের বিরতি দিতে হয়েছিল। তবে সেই বাধা সিনারের ছন্দ নষ্ট করতে পারেনি। প্রথম সার্ভিসে টানা ২৩টি পয়েন্ট জিতে লেহেচকাকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন তিনি। লেহেচকা তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম এটিপি ১০০০ ফাইনালে লড়লেও সিনারের নিখুঁত গ্রাউন্ডস্ট্রোকের সামনে অসহায় ছিলেন।
নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে গত বছর স্থগিতাদেশের কারণে মায়ামি ওপেনে অংশ নিতে পারেননি সিনার। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি হাতে নিয়ে তিনি বলেন, “গত বছরের ওই ঘটনাগুলো আমার মাথায় ছিল। এই ধরণের টুর্নামেন্টগুলো আমি খুব মিস করেছি। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ফ্লোরিডায় এসে শরীর কিছুটা ক্লান্ত থাকলেও জেতার জেদ ছিল প্রবল।”
নারী দ্বৈতের ফাইনালে সারা এরানি ও জেসমিন পাওলিনি জুটিকে ৭-৬ (৭-০), ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন টেলর টাউনসেন্ড ও ক্যাটেরিনা সিনিয়াকোভা জুটি।
বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সিনার এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন। কার্লোস আলকারাজ ও জোকোভিচের অনুপস্থিতিতে সিনারই এখন টেনিস বিশ্বের নতুন সম্রাট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।