অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কতিপয় আইন কর্মকর্তা ‘নোট’ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনৈতিক লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, আদালতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হবে। আমরা রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করছি। এই নোট বাণিজ্যের অভিযোগে আমাদের অনেক আইন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’র অভিযোগ আছে। তেমনি কিছু অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ আছে। আমরা কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছি যারা এগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ত। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এসব কথা বলেন।
ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করবে না। দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে নির্মোহভাবে কাজ করবো।
তিনি বলেন, আমার নিয়োগের পর থেকে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারা এই অনৈতিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা কারা সম্পৃক্ত হতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে তাদের শেষ বার্তা বা শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সম্মান অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে আমরা অনেকে মনে করি। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, এই পেশার (আইনপেশা) যে সুমহান মর্যাদা বলে আমরা দাবি করি, সেটা আমাদের আচরণের কারণে বজায় রাখতে পারছি না। আমাদের লেখাপড়ার ঘাটতি, নীতি নৈতিকতা, সততার কারণে এগুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারবেন কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সাংবিধানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। আমি একটা রাজনৈতিক দল, তার আদর্শিক অবস্থান আমার সবসময় ছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে আমার কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করবে না। আমি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। আমি রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্রের পক্ষে সবসময় কথা বলে যাব।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের নীতি নৈতিকতার সঙ্গে, সততা, কর্মনিষ্ঠা, দেশপ্রেমের সঙ্গে, দেশের মানুষ জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, আমি নির্মোহভাবে সেটা করে যাব ইনশাআল্লাহ।
সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সেদিনও ওনাকে (প্রধান বিচারপতি) বলেছিলাম। আমি মনে করি যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন ব্যক্তি। তার সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কথা হয়নি। আপনাদের (সাংবাদিকদের) এই কনসার্নটি, আমি তার কাছে তুলে ধরব। তিনি (প্রধান বিচারপতি) এটা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে আপনাদের সহযোগিতা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।